শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রামগড় থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করতেন

॥ মোঃ মাসুদ রানা, রামগড় ॥
১৯৭১ সালের এই দিনে অকুতোভয় মুক্তিসেনা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটে রামগড় ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা রামগড়ে প্রবেশ করে স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে রামগড়কে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন এবং ৮ই ডিসেম্বর খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা হানাদারমুক্ত দিবস। সেদিন পড়ন্ত বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত সুলতান আহমেদ মুক্তিকামী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রামগড় ডাকঘরের শীর্ষে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে রামগড় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে রামগড় বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে বিজয় ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম। উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রেহান উদ্দিন এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এডহক কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ বিহারী নাথ, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম।

রামগড় হানাদারমুক্ত দিবসকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন ফেনী নদীর তীরে অবস্থিত তৎকালীন মহকুমা শহর রামগড় ছিল চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র প্রতিরোধ-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র। রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গড়ে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ শিবির। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (তৎকালীন মেজর) এখান থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। তিনি ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় বিএসএফ প্রধান ব্রিগডিয়ার পান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে ব্রিগেডিয়ার পান্ডেসহ মেজর শফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশারফ ও মেজর শাফায়েতকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কনফারেন্স করেন। সেই বৈঠকেই মেজর জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বক্তারা আরো বলেন, ২ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রামগড়ে ব্যাপক আক্রমণ চালায়। মুক্তিযুদ্ধ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা মেজর রফিকুল ইসলাম সমস্ত স্থাপনা ও যুদ্ধসামগ্রী সীমান্তসংলগ্ন ভারতের সাবরুমে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলে তীব্র প্রতিরোধের পর রামগড়ে তাদের পতন ঘটে। পরবর্তীতে ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির থেকে মুক্তিযোদ্ধারা নতুন করে মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় আক্রমণ শুরু করেন। ৭ ডিসেম্বর রাত ও ৮ ডিসেম্বর ভোরে ভারতীয় দুটি জঙ্গিবিমান রামগড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় দু’দফা সফল হামলা চালালে শত্রুরা রামগড় ত্যাগে বাধ্য হয় এবং রামগড় আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত হয়।