॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা ॥
লামার ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর এক নারী কর্মচারীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা, কু-প্রস্তাব দেয়া ও চাকরির নানা ইস্যুতে নগদ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। ২০২২ সাল থেকে এই হয়রানি শুরু হলেও নিরুপায় হয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং শনিবার লামা থানায় লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মচারী। এছাড়া জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ভিকটিম ওই নারী জানান, ২০২২ সাল থেকে আমি ফাইতং উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণী একটি পদে চাকরি করি। প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের কথাবার্তা প্রথমে আমি না বুঝলেও কয়েকদিন পরে আমি তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারি। আমি স্বামীর সাথে আমার দূরত্ব রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রায়সময় সে আমার চকরিয়া বাসায় একা এসে আমাকে কু-প্রস্তাব দিত। অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে নগদ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এইসবে আমি রাজি না হওয়া সবসময় আমার সব কাজে ভুল ধরে আমাকে হেনস্তা করত। তিনি একজন শিক্ষক হয়ে কিভাবে এক নারীকে এত খারাপ কথা বলত, তা আমার বুঝে আসেনা। নানা সময় স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী ও নাইটগার্ড দিয়ে আমাকে চোর প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে।
প্রধান শিক্ষক আমার চাকরির ইএফটি করতে ১০ হাজার টাকা দাবী করে, না পারতে আমি ৬ হাজার টাকা দিই। জন্মনিবন্ধন দিয়ে চাকরি হওয়ায় পরে আইডি কার্ড বয়স সংশোধন, এমপিও ফাইল পাঠাতে, বেতন কনফার্ম করার সময় কখনো ১০ আবার কখনো ২০ হাজার টাকা দাবী করে। আমি টাকা না দেয়ায় সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। সে আমাকে বলে তাকে ১ ঘন্টা সময় দিতে, সে সব কাজ ঠিক করে দিব। পরে আমি মহিলা মানুষ নিজে কয়েকবার ঢাকা গিয়ে কাজ গুলো করি।
সবশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং রবিবার বিকেল ৪টায় স্কুলের অফিস রুমে এইসব বিষয়ে সে আমার কাছ থেকে কোন সুবিধা না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে বলে, যতক্ষণ তোকে আমি ভোগ করতে পারবোনা ততক্ষণ আমার শান্তি নাই। কয়েকজন স্টাফের সামনে এমন কথা বলায় আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পরি। অফিসের কাজে এবং বেতন বন্ধ থাকার কারণে আমি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ধার করি। এজন্য তিনি আমার কাছ থেকে ১০ পাতার খালি চেক বইয়ে ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে চেক দিয়ে দিলেও সাদা কাগজ দেয়নি। অবশেষে পরিবারের লোকজনের পরামর্শে ও নিরুপায় হয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর লামা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। আমি বিচার চাই।
প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি জানিনা। আমাকে কেউ কিছু বলেনি। ওই নারীর করা অভিযোগ সত্য নয়, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
লামা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অ:দা:) মিঠু চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি লামা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব আছি। এই বিষয়টি ছাড়াও গত কয়েকদিনে প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আমার কাছে ৩টি অভিযোগ এসেছে। আগামী ৭ অক্টোবর ২০২৬ইং তদন্তের জন্য তাকে ডাকা হয়েছে।
এদিকে গত ০৮ ফেব্রেুয়ারী ২০১৬ইং তারিখে এসএসসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় সুবিধা দেয়ার কথা বলে কু-প্রস্তাব দেয়া, ২০২৬ সালে এসএসসি’র এক পরীক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব দেয় এই প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন। স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, নানা অজুহাতে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার শত শত অভিযোগ রয়েছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। স্কুলের অভিভাবকরা বলেন, এমন শিক্ষকের কাছে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়। তার শাস্তি দাবী করে তারা।