শিরোনাম
দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে কাপ্তাইয়ে সমাবেশকাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের মানুষ একাধিক সুবিধা থেকে বঞ্চিতজাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে দীঘিনালায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালাপাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা: ওয়াদু ভুঁইয়া এমপিরাত নামলেই রামগড়-টু-বারৈয়ারহাট সড়কে বিভিন্ন অংশে ডাকাতিখাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে অনুমোদিত পদ ৮২টি কর্মরত আছেন ১৭দুইটিলা আর্মি ক্যাম্পে কারবারি সম্মেলন ও বিদ্যালয়ে চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চ বিতরণদীঘিনালায় দূর্গম মধ্য বানছড়া এলাকায় সেনবাহিনীর চিকিৎসা সেবাদীঘিনালায় বৌদ্ধ বিহারে সেনাবাহিনীর পাওয়ার টিলার প্রদানবান্দরবানের থানচিতে মিষ্টি কুমড়া চাষে ঝুঁকছে চাষিরা, ফলন ও আয় ভাল

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে দাবি, চুক্তি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে

৫

॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে জাতিসংঘ ঘোষিত অধিকার বাস্তবায়ন সহ ১৯৯৭ সালের স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকারের কাছে দ্রুত ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। আমাদের পরিচয় রাষ্ট্র চাপিয়ে দিতে পারে না এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। রবিবার (৯আগষ্ট) রাঙ্গামাটিতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম রাঙ্গামাটি অঞ্চলের উদ্যোগে সকাল ১০ঘটিকায় পৌরসভা প্রাঙ্গনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল-এর সভাপতি ও সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা এবং দিবসের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা। উপস্থিত ছিলেন, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক এর সভাপতি থোআই অং মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ফদাং তাং রান্দাল, অ্যাড. জুয়েল দেওয়ান, বক্তব্য রাখেন ফদাং তাং রান্দাল, আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার সহ প্রমুখ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা বলেন, আমরা আদিবাসী দিবস পালন করছি তিন যুগের বেশী সময় ধরে। অথচ রাষ্ট্র কখনো আমাদের স্বীকার করছে না। আমরা আদিবাসী বললে আমাদেরকে বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেয়। বর্তমান সরকারের রেইনবো নেশনের আমরাও অংশীদার হতে চাই এবং এতে সরকারের আন্তরিকতার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রধান অতিথি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিল করা হলে সরকারকে এর চেয়েও শক্তিশালী চুক্তি করতে হবে। তাই চুক্তি নিয়ে তালবাহানা না করে চুক্তি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। আমাদের পরিচয় রাষ্ট্র চাপিয়ে দিতে পারে না এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় চার জন সাংসদ তার মধ্যে তিন জনই আদিবাসী রয়েছেন। সরকার জনগনের কল্যানে সংবিধান সংস্কার করবেন অথচ তিন জনই আদিবাসী সাংসদ রয়েছেন এর মধে একজনকেও রাখা হয় নি। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যপারে অনীহা রয়েছে সরকারের।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ঊনত্রিশ বছর পার হয়েছে অথচ কোন সুরহা হয়নি। অনন্তকাল এভাবে চলতে পারে না। আমরা এখানে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। সরকারের ভেতরে থেকেই যারা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের উপর দমন পীড়ণ চালাচ্ছে তাদের শাসনেরও অবসান চাই।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি চাইলেও সরকার সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নে অনীহা। আমরা বাঙালি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি নই, আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাই এবং সেভাবেই বেঁচে থাকতে চাই। জাতিসংঘ ঘোষিত এই অধিকার বাংলাদেশ সরকার বাস্তবায়ন করবে সে দাবি করছি।

একিকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনকে কেন্দ্র করে সকাল ৯ঘটিকা থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শত শত পাহাড়ী নারী-পুরুষ পৌরসভা প্রাঙ্গনে জড়ো হতে থাকনে। আলোচনা সভা শেষে র‌্যলি সহ এসময় বিভিন্ন ব্যানার প্লেকার্ড ফেস্টুন নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে সেøাগান দেন। আমরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নয়, আদিবাসী হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি চাই।

আলোচনা সভা শেষে পৌর চত্ত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক হয়ে রাজবাড়িস্থ শিল্পকলা একাডেমী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।