শিরোনাম
সুস্থ থাকতে হলে খাবার খাবেন হাত ধুয়েতরুণ সমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীরামগড় স্থানীয়দের মাঝে বিজিবি’র বিভিন্ন সহায়তা প্রদাননজরুল বর্ষ উপলক্ষে রামগড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানরামগড় স্থলবন্দর অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলরাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আর নেইবান্দরবানের লামায় বজ্রপাতে শিশু সহ নিহত ২, আহতকাপ্তাইয়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাইঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই

লামা তথ্য অফিসের ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি’ অনুষ্ঠানে

নিজে কাঁদলেন ও সবাইকে কাঁদালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘প্রিয়দর্শী বড়ুয়া’

১০৪

॥ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ॥

লামা তথ্য অফিসের আয়োজনে ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি’ অনুষ্ঠানে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মুখে স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস শুনল শতাধিক শিক্ষার্থী। একাত্তর রণাঙ্গনের বীর সেনানী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া সংগ্রামের সময়ে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরলেন। রক্তঝরা অর্জিত স্বাধীনতার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজে কাঁদলেন ও সবাইকে কাঁদালেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) এর আওতায় তথ্য অফিস লামার আয়োজনে ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরণী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শন’ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লামা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলি চাইল্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের হলরুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হলি চাইল্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি তানফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সহকারী তথ্য অফিসার খন্দকার তৌহিদ। অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিলকী রাণী দাশ, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, হলি চাইল্ড স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বাপ্পী দাশ, সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এছাড়া স্কুলের শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি কক্সবাজার কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে বন্ধুদের সাথে তিনি চকরিয়া উপজেলায় এসে সংগ্রামে অংশ নেন। দিনের পর দিন না খেয়ে, পাকহানাদার বাহিনীর বুলেটের মুখে রক্ত ঝরে সংগ্রাম করেছেন। নিজ হাতে সঙ্গীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুদের মাটিতে দাফন করেছেন। সারাদিন যুদ্ধ শেষে রাতে রেডিওতে শেখ মুজিবের কন্ঠ শুনার জন্য ওৎপেতে থাকতেন। মুজিব ছিল বাঙ্গালীর সাহস ও বীরত্বের আরেক নাম। নিজ চোখে দেখেছেন হানাদার বাহিনীর সাথে রাজাকারদের হুকার। পাকিস্তানীদের সহায়তায় রাজাকাররা এদেশের মানুষের সম্পদ লুট করেছে। নারীদের করা হয়েছে ভোগ্যপন্য। কত ত্যাগ ছিল স্বাধীনতায় তা শুধু ৭ কোটি বাঙ্গালী জানে। ঘন্টাব্যাপী তার আবেগমিশ্রিত বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সবাই শুনেছেন। মনে হচ্ছিল এই বুঝি নিজের চোখে সামনে দিয়ে ঘটে যাওয়া একটুকরো স্বাধীনতা সংগ্রাম।