শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

লামা তথ্য অফিসের ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি’ অনুষ্ঠানে

নিজে কাঁদলেন ও সবাইকে কাঁদালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘প্রিয়দর্শী বড়ুয়া’

১০২

॥ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা ॥

লামা তথ্য অফিসের আয়োজনে ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি’ অনুষ্ঠানে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মুখে স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস শুনল শতাধিক শিক্ষার্থী। একাত্তর রণাঙ্গনের বীর সেনানী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া সংগ্রামের সময়ে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরলেন। রক্তঝরা অর্জিত স্বাধীনতার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিজে কাঁদলেন ও সবাইকে কাঁদালেন তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) এর আওতায় তথ্য অফিস লামার আয়োজনে ‘এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি, আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরণী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচিত্র প্রদর্শন’ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত লামা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হলি চাইল্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের হলরুমে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হলি চাইল্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি তানফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লামা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সহকারী তথ্য অফিসার খন্দকার তৌহিদ। অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিলকী রাণী দাশ, লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, হলি চাইল্ড স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক বাপ্পী দাশ, সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এছাড়া স্কুলের শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা প্রিয়দর্শী বড়ুয়া বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি কক্সবাজার কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখান থেকে বন্ধুদের সাথে তিনি চকরিয়া উপজেলায় এসে সংগ্রামে অংশ নেন। দিনের পর দিন না খেয়ে, পাকহানাদার বাহিনীর বুলেটের মুখে রক্ত ঝরে সংগ্রাম করেছেন। নিজ হাতে সঙ্গীয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বন্ধুদের মাটিতে দাফন করেছেন। সারাদিন যুদ্ধ শেষে রাতে রেডিওতে শেখ মুজিবের কন্ঠ শুনার জন্য ওৎপেতে থাকতেন। মুজিব ছিল বাঙ্গালীর সাহস ও বীরত্বের আরেক নাম। নিজ চোখে দেখেছেন হানাদার বাহিনীর সাথে রাজাকারদের হুকার। পাকিস্তানীদের সহায়তায় রাজাকাররা এদেশের মানুষের সম্পদ লুট করেছে। নারীদের করা হয়েছে ভোগ্যপন্য। কত ত্যাগ ছিল স্বাধীনতায় তা শুধু ৭ কোটি বাঙ্গালী জানে। ঘন্টাব্যাপী তার আবেগমিশ্রিত বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সবাই শুনেছেন। মনে হচ্ছিল এই বুঝি নিজের চোখে সামনে দিয়ে ঘটে যাওয়া একটুকরো স্বাধীনতা সংগ্রাম।