শিরোনাম
শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ও ঝরে পড়া রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীপ্রকৃতির সহনশীলতা খেয়াল রেখে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীখাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় ছয়টি গরু জব্দবান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হয়েছে ইকো-কার্ডিওগ্রাফি সেবারামগড় বিজিবির জোন কমান্ডারের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদানকাপ্তাইয়ে বানরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ, ক্ষতি করা যাবে না বললো বন বিভাগরামগড়ে হারানো মেয়েকে ৯ বছর পর ফিরে পেলেন মাসরকারের অর্থায়নে প্রকল্পের কাজের প্রতি জবাবদিহিতা থাকতে হবে:পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রুপুলিশের অভিযানে ৪ দিন পরে লামার নিখোঁজ তিন কিশোরী উদ্ধারসাজেকে ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

রামগড়ে হারানো মেয়েকে ৯ বছর পর ফিরে পেলেন মা

১

॥ মোঃ মাসুদ রানা, রামগড় ॥
খাগড়াছড়ির রামগড়ে হারানো মেয়েকে দীর্ঘ ৯ বছর পর ফিরে পেলেন মা জাহানারা বেগম। রামগড় থানা পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহীর একটি সেফহোম থেকে রমুজা আক্তার (৩৯) কে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্প্রতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুড়ে তার মা ও বোনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন পর মা-মেয়ের দেখা হওয়ায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মাকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রমুজা। অন্যদিকে হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি মা জাহানারা বেগম। মেয়েকে ফিরে পেতে সহযোগিতার জন্য আদালত ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে স্বামীর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রমুজা আক্তার। এরপর আত্মীয়-স্বজন সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।

রমুজা ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের কবির আহাম্মদ ও জাহানারা বেগমের মেয়ে। ২০০৭ সালে পাশের রামগড় উপজেলার বালুখালী গ্রামের মনসুর আলী চকিদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

রমুজার মা জাহানারা বেগম জানান, অভাব-অনটন ও পারিবারিক অশান্তির কারণে ২০১৭ সালে মেয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানা পুলিশ রমুজার নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে রাজশাহীর বায়া এলাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসনে (সেফহোম) পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন তিনি।

সম্প্রতি সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে রমুজার পরিচয় শনাক্ত হয়। এরপর তাকে ফিরে পেতে তার মা আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহী থেকে তাকে রামগড়ে আনা হয়।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম জানান, মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সহযোগিতায় রমুজাকে রাজশাহী থেকে রামগড়ে আনা হয়। আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মা ও বোনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর পর মায়ের কোলে ফিরে এসেছে রমুজা। মা-মেয়েকে একসঙ্গে দেখে এলাকার সবাই আবেগাপ্লুত। দীর্ঘদিন পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় রমুজা অনেকটা বাক্প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।