॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
ব্যাপক আনন্দ উদ্দিপনা আর ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষে বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সানতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রী শ্রী দূর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটলো। গত পাঁচদিন ধরে রাঙ্গামাটির প্রতিটি দূর্গা মন্দিরে ঢাকঢোল, গান বাজনা আর পূজা অর্চনা সহ সকল ধর্মাবলম্বীর আনন্দ উদ্দিপনার উপস্থিতিতে সমাগম ছিল প্রতিটি পূজামন্ডপ। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকাল ৫টায় কাপ্তাই হ্রদে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছে অশ্রুনয়নে।
এদিকে দূর্গাপূজা নিয়ে বিকাল থেকে রাত অবধি দর্শনার্থী সহ পূর্নাথীদের ঢল জেনে মেতে উঠেছিল পুরো রাঙ্গামাটি সহ উপজেলা গুলোর পূজাবাড়ী। সকল শ্রেনীপেশার মানুষ পূজা উদযাপন করতে পরিবার, আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের সাথে নিয়ে উপভোগ করেছেন ধর্মীয় এ বৃহৎ অনুষ্ঠান।
বিসর্জনের সময়ও ঢাকঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও হাজারো ভক্তের জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকা। এসময় দর্শনাথীরাও হ্রদেও পাড়ে দাড়িয়ে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। কোথাও কোথাও দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো মানুষ। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবীকে বিদায় জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এদিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা নজরদারি, আইনসৃঙ্খলা বাহিনীর সকল স্তরের প্রতিটি ইউনিটের কর্মকর্তা সহ সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক তৎপর ছিলেন। অনুষ্ঠানে কেউ যাহাতে কোন ধরনে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য প্রতিটি পূজা মন্ডপে কঠোর নজরদারী ছিল লক্ষ্যনীয়।
রাঙ্গামাটি সহ উপজেলাগুলোর প্রতিটি পূজামন্ডপে সরকার দলের নের্তৃবৃন্দরা সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও খোঁজ খবর রাখেন। কোথাও কোথাও পূজামন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভীর সামলাতে হিশিম খেতে হয় সেচ্ছাসেবকদের। প্রতিটি পূজা মন্ডপের কমিটির সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি সুন্দর রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সহ আইনসৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করে এসেছেন।
গতকাল বিকালে যখন প্রতিমা বিসর্জনের সময় ঘনিয়ে আসছে তখন রাঙ্গামাটি শহরের প্রতিটি পূজা মন্ডপের প্রতিমা নিয়ে ট্রাকে করে ঢাকঢোল আর গান বাজনা সহকারে শহরের গুরুত্বপূর্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করা হয়। এসময় উৎসুক মানুষ প্রতিমা দেখার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়েও আনন্দ উপভোগ করেন। পরে বিকাল ৫টায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্ত অনুরাগীদের অশ্রুনয়নে কাপ্তাই হ্রদে দূর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে পাঁচ দিনের বৃহৎ এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।