॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
রাঙ্গামাটির রূপসী কাপ্তাইয়ে পূজার ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামার অপেক্ষায় রিসোর্ট ও পর্যটক কেন্দ্র গুলোর ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাগণ। পূজা উপলক্ষ্যে সকল রিসোট ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আগাম বুকিং নিয়ে রাখা হয়েছে। পাহাড়, লেক, নদী আর সবুজের অপূর্ব মেলবন্ধন। একদিকে কর্ণফুলী নদী, অন্যদিকে কাপ্তাই হ্রদ সঙ্গে সীতার পাহাড়, চা-বাগান ও বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় রূপ দেখতে শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন হোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের পরিচালকেরা। ইতিমধ্যে কাপ্তাইয়ের অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্রের আবাসনকক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, রেস্ট হাউস ও রিসোর্টে পর্যটকদের আগাম বুকিংয়ের চাপ বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের সব কক্ষ বুকিং হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আবাসন খুঁজে পেতে পর্যটকদের বেগ পেতে হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাপ্তাইয়ের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র প্যানোরমা জুম রেস্তোরাঁ, লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট, রাইংখ্যং আইল্যান্ড, নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউস, ফ্লোটিং প্যারাডাইস, চন্দ্রালোক, লেকশোর ও লেকভিউসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে পূজার ছুটিকে ঘিরে আগাম বুকিং নেওয়া হয়েছে। কাপ্তাইয়ের শিলছড়িতে অবস্থিত নিসর্গ পড হাউসের ব্যবস্থাপক মাসুদ তালুকদার বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ১০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত নয় এমন কক্ষ এবং আটটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ রয়েছে। পূজার ছুটিতে এসব কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে।
কাপ্তাই হ্রদের মধ্যে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা রাইংখ্যং আইল্যান্ডের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, তাঁদের ১০টি কক্ষের সব কটিই বুকিং হয়ে গেছে। অনেকে তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থাও আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। ফলে নতুন করে কক্ষ বুকিং দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাপ্তাইয়ের পর্যটন আকর্ষণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একই জায়গায় পাহাড়, হ্রদ, নদী, সমতল ভূমি ও সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া। কোথাও পাহাড়ের ঢালে ঘন সবুজের সমারোহ, কোথাও হ্রদের নীল জলরাশি, আবার কোথাও নদীর বুকে নৌভ্রমণ—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে কাপ্তাই একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।
কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন সড়ক ও পাহাড়ের পাদদেশে কখনো কখনো বন্য হাতি,বানর, হনুমান ও বিভিন্ন রঙের পশুপাখির দেখা মেলে। কর্ণফুলী নদী ও কাপ্তাই হ্রদে হাতির বিচরণ এবং পানিতে নামার দৃশ্যও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে। তবে বন্য প্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়া এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
কাপ্তাই বোট মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ ইদ্রিস বলেন, এবারের দীর্ঘ পূজার ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণে আসবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। পর্যটকেরা ছোট ও বড়—দুই ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া নিয়ে হ্রদ ঘুরে দেখেন। ছুটিতে এসব নৌকার চাহিদা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ কাপ্তাইয়ের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপদ আবাসন এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তারা।
কাপ্তাইয়ের শিলছড়িতে অবস্থিত ফ্লোটিং প্যারাডাইস রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পর্যটন উদ্যোক্তা প্রেসিডেন্ট স্কাউট হাজি মোঃ মঈনুদ্দিন জুয়েল বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে কাপ্তাইয়ের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। কর্ণফুলী নদী, কাপ্তাই হ্রদ, রাম পাহাড়, সীতার পাহাড়, ওয়াগ্গা ছড়া চা-বাগান এবং বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য অবলোকন করতে এবার পুজার ছুটিতে কাপ্তাইয়ে হাজারোও পর্যটকের আগমন ঘটবে।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহামুদুল হাসান রুবেল জানান, ইতিমধ্যে পূজা পালন ও আগত পর্যটকদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।