॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও মর্যাদার সাথে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবে। সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য পার্বত্য অঞ্চলের নানা বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। শুক্রবার (১৬অক্টোবর) বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বান্দরবান জেলার ৩৩টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে মোট ২৫ লাখ টাকার সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি এসব কথা বলেন।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস এম মনজুরুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু এবং বান্দরবান কেন্দ্রীয় দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব দাশ রাজেশ্বর। এছাড়া জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি আমাদের পারস্পরিক সামাজিক বন্ধন, শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতিকে আরও গাঢ় করার সেতুবন্ধন হলো শারদীয় দুর্গা পূজা। তিনি এ উৎসবের আনন্দকে সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। রাতের বেলায় পূজামণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি এবং স্থানীয় জনগণকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে সরকারি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, অধিকার এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার স্বচ্ছতার সাথে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে এই অনুদান বণ্টনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি অনুদানের টাকা যথাযথ প্রস্তুতি, পরিচ্ছন্নতা, মণ্ডপ নিরাপত্তা এবং মন্দির ও শ্মশানের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নে ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় অবকাঠামোগত মান উন্নয়নে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।