শিরোনাম
বান্দরবানের লামায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এলজিইডি’র সড়কের উন্নয়ন কাজ ব্যাপক অনিয়মে ?দুর্গম পাহাড়ে বঞ্চিত বহু মানুষের চিকিৎসা সেবায় মাটিরাঙ্গা সেনা জোনবাঘাইছড়িতে সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানবান্দরবানের লামায় কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগরাঙ্গামাটিতে দূর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্ত অনুরাগীদের অশ্রুনয়নেকাপ্তাই বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়া হোকখাগড়াছড়ির রামগড়ে পুজামন্ডপ পরিদর্শনে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপিদুর্গাপূজা উপলক্ষে রামগড়ে ৫০ অসহায় নারীকে শাড়ি প্রদানরাঙ্গামাটির লংগদু মাইনীমুখ বাজারের সড়কগুলো প্রভাবশালীদের দখলেখাগড়াছড়ির রামগড়ে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ জব্দ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় কোকোপিটে মরিচের চারা উৎপাদনে সফল ইয়াছিন

১০

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদ ছেড়ে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনে ঝুঁকছেন মাটিরাঙ্গার কৃষক ও উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে মাটি ছাড়াই কোকোপিট (নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়ো) ব্যবহার করে মরিচের চারা উৎপাদন এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত ও রোগমুক্ত চারার নিশ্চয়তা থাকায় এই পদ্ধতিতে কৃষিতে এক ধরনের বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে কোকোপিটে মরিচের চারা উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছেন মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইয়াছিন। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতিতে তিনি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চারা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। সাধারণত মাটিতে চারা তৈরি করলে শিকড় পচা ও মাটিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু কোকোপিটে চারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। মাটি না থাকায় শিকড় পচন বা ছত্রাকজনিত রোগ খুব কম হয়। পাশাপাশি কোকোপিট হালকা ও বায়ুচলাচলে সহায়ক হওয়ায় চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শিকড় হয় আরও মজবুত। এই পদ্ধতিতে বীজের অপচয় কম হয় এবং প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বীজের অঙ্কুরোদগম নিশ্চিত হয়। এছাড়া প্লাস্টিক ট্রে বা প্রো-ট্রেতে উৎপাদিত চারাগুলো মাটির বলসহ সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করা যায়, ফলে রোপণের পর চারা নষ্ট হওয়ার হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
ইউটিউব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে মোঃ ইয়াছিন কোকোপিটে প্রায় চার হাজার মরিচের চারা উৎপাদন করেন। প্রতিটি চারা তিনি মাত্র ২ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

মোঃ ইয়াছিনের নার্সারির নাম ‘বনসাই নার্সারি। মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পেছনে অবস্থিত এই নার্সারিতে মরিচের পাশাপাশি বিভিন্ন শাক-সবজির উন্নতমানের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। তিনি গত তিন বছর ধরে কোকোপিটে চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। চারা উৎপাদনের জন্য তিনি প্রতি বস্তা ভার্মিকম্পোস্ট সার ৫০০ টাকা দরে এবং ৪ কেজি ওজনের কোকোপিট ব্লক ৫০০ টাকা দরে ক্রয় করেন। তার নার্সারিতে বর্তমানে ১০০টিরও বেশি ট্রে রয়েছে, যা মানভেদে প্রতিটি ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে সংগ্রহ করা হয়েছে। কোকোপিটে উৎপাদিত চারাগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে, রোগবালাই কম হয় এবং গাছের শিকড় হয় শক্তিশালী এ কারণে কৃষকদের মধ্যে এসব চারার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষি উদ্যোক্তা জানান, আগে যেখানে চারা উৎপাদনে অনেক জমি ও শ্রমের প্রয়োজন হতো, এখন স্বল্প পরিসরে বাড়ির আঙিনায় কিংবা শেডের নিচে হাজার হাজার চারা উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। বাজারে কোকোপিটে উৎপাদিত চারার চাহিদা সাধারণ চারার তুলনায় অনেক বেশি। কৃষকরা বাড়তি দাম দিয়েও এই সুস্থ-সবল চারা কিনছেন, কারণ এতে মূল জমিতে ফলন ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে চড়পাড়ার কৃষক আব্দুর রব কোকোপিটে উৎপাদিত টমেটোর চারা রোপণ করেছেন। তার জমিতে লাগানো টমেটো গাছগুলো দেখতে বেশ সতেজ ও সবল। তিনি জানান, এসব চারা লাগানোর পর গাছের বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে এবং ফলন নিয়েও তিনি আশাবাদী। অপর কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, আগে মাটিতে চারা তুলতে গিয়ে ড্যাম্পিং-অফসহ নানা রোগে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। কোকোপিট ব্যবহারে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি কম জায়গায় বেশি চারা উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় খরচ কমছে এবং বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, কোকোপিটে মরিচের চারা উৎপাদন করলে চারার মান বজায় থাকে এবং এটি বাণিজ্যিক কৃষির জন্য অত্যন্ত লাভজনক। সরকারি ও বেসরকারিভাবে যদি আরও প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন ট্রে উন্নত বীজ ও কোকোপিট সরবরাহ বাড়ানো যায়, তবে মরিচ চাষে দেশ আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলী বলেন, কোকোপিটে মরিচের চারা উৎপাদন কেবল একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, এটি কৃষকদের ভাগ্য বদলের নতুন হাতিয়ার। সঠিক পরিচর্যা ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে।