বান্দরবানের লামায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এলজিইডি’র সড়কের উন্নয়ন কাজ ব্যাপক অনিয়মে ?
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা ॥
বালুর পরিবর্তে পাহাড়ের লাল মাটি, এলসি পাথরের পরিবর্তে পুরাতন বিল্ডিং এর ভাঙ্গা কংকর, ইটভাটার সবচেয়ে নিম্নমানের ইট এবং এলজিইডি’র কোনরকম তদারকি ছাড়াই চলছে বান্দরবানের লামার আজিজনগর ইউনিয়নের “পূর্বচাম্বী মুসলিম পাড়া সড়কের” ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ। ইউনিয়নের ক্যাম্প বাজার থেকে বাছুরি পাড়া হয়ে ৯নং ওয়ার্ডের পূর্বচাম্বী মুসলিম পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের ১ম পর্যায়ে ক্যাম্প বাজার হতে বাছুরি পাড়া পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। উন্নয়ন কাজটি শুরু থেকে চরম অনিয়ম হচ্ছে জানান স্থানীয় লোকজন। অনিয়মের অজুহাতে স্থানীয়রা কয়েকবার কাজ বন্ধ করে দিলেও ভালো হয়নি কাজের মান।
এলজিইডি লামা অফিস সূত্রে জানা যায়, সিএইচটি-আরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোঃ ইউনুচ এন্ড ব্রাদার্স প্রাঃ লিঃ ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে তিন কিলোমিটার সড়কটির কাজ বাস্তবায়ন করছে। কাগজে কলমে মোঃ ইউনুচ এন্ড ব্রাদার্স থাকলেও কাজটি আওয়ামী যুবলীগের পলাতক সদস্য আনিসুর রহমান সুজন করছিল। বর্তমানে তার ছোট ভাই বান্দরবান জেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মেহেদী কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৫ সালের জুন থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ৩০শে জুন কাজটির কার্যকাল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ৬০ শতাংশ কাজ সম্পাদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডি লামার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলম।
সরজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদার ইচ্ছেমত কাজ করছে। পাহাড়ের লাল মাটি সড়কের পাশের ড্রেন সহ নানা ঢালাই কাজে সিমেন্টের সাথে ব্যবহার করছে। নিম্নমানের ইট এবং বিল্ডিং ভাঙ্গা পাথরের খোয়া দিয়ে কাজ করছে। বিষয় গুলো এলজিইডি লামাকে জানানো হলে, এলজিইডি’র দায়িত্বরত কর্মকর্তা ক্যাম্প বাজার সংলগ্ন চলমান ড্রেনের কাজের ২০ থেকে ৩০ ফুট ভেঙ্গে দিয়ে দায় সেরেছে। তিন কিলোমিটার সড়কের চলমান কাজে দুর্নীতির একইচিত্র। এই কারণে নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে উন্নয়ন কাজ গুলো নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, এই কাজ গুলো ঠিকাদার নিজ ইচ্ছে মতো করে যাচ্ছে, দেখার কেউ নাই। এলজিইডি প্রতিনিধিরা তো সবসময় আসে না। মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম নামে একজন বলেন, এইসব দুর্নীতি পরায়ন ঠিকাদারদের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা দরকার। মোঃ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশের ক্ষতি ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আওয়ামীলীগের দরকার পড়বেনা। বিএনপির কিছু লোকজনই যথেষ্ট। মোঃ শাহজালাল বলেন, পুরাতন ড্রেনের ঢালাই এবং বিল্ডিং ভাঙ্গা ময়লা কঙ্কর দিয়ে কাজ চলছে! জনৈক ব্যক্তি বলেন, কাজ কিনে নিয়েছে ১৫ শতাংশ দিয়ে। বিএনপি’র কোন একজন নেতা সাথে আছে, কোন সমস্যা নাই। কাজের অনিয়মের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মোঃ মেহেদীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলজিইডি লামার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলম জানান, অনিয়মের কথা শুনে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ঠিকাদার আমাদের কথা শুনেনা। অনিয়ম করায় কিছু অংশ কাজ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। লামা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আবু হানিফ বলেন, অনিয়মের বিষয়টি জানার পরপরই কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কাজ মান খারাপ হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। এবিষয়ে জানতে এলজিইডি বান্দরবান জেলা প্রকৌশলী প্রতি পদ দেওয়ান কে অসংখ্যবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।