বন্যহাতির আক্রমণে নিহত মংখ্যাইচিং এর পরিবার পেল ৩ লক্ষ টাকা
॥ কবির হোসেন, কাপ্তাই ॥
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নে বন্যহাতির আক্রমণে নিহতের পরিবারের হাতে ৩ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ হলরুম কিন্নরীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহতের স্ত্রী সানুই মারমার হাতে এ চেক তুলে দেওয়া হয়।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কর্ণফুলী রেঞ্জের কর্মকর্তা মোঃ ফজলে রাব্বী সরকার, কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ এনামুল হক হাজারীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত মংখ্যাইচিং মারমা (৫০) স্থানীয়ভাবে ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কাপ্তাই উপজেলার ৩ নম্বর চিৎমরম ইউনিয়নের চিৎমরম বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা। গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ রাতে উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম চাকুয়া পাড়া এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর তাঁর পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করে বন বিভাগ।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী রেঞ্জের কর্মকর্তা মোঃ ফজলে রাব্বী সরকার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আবেদন করলে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হাতির ওপর কেউ যেন কোনো ধরনের আক্রমণ না করে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, বন্যহাতির আক্রমণে মানুষের বসতবাড়ির ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, কেউ আহত হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং কেউ নিহত হলে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আমরা এ অনাখাঙ্খিত মৃত্যু চাই না, আমরা চাই সবার নিরাপদ জীবন।