শিরোনাম
চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে: প্রতিন্ত্রী মীর হেলালখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় মিষ্টি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মাতৃভান্ডারকে জরিমানাস্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তায় সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি মাটিরাঙ্গা সেনা জোনেরখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিক্ষার্থীদের মাঝে জোনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণলামায় কৃষিপণ্য মার্কেটিং চ্যালেঞ্জ সমাধানে করণীয় বিষয়ক এ্যাডভোকেসী সভাজনগণের ভোগান্তি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না: ভুমি প্রতিমন্ত্রীকাপ্তাইয়ে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতপার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ, রাজনীতিতে ও উন্নয়নে হতাশ রাঙ্গামাটিবাসীওবান্দরবনের থানচির সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করায় ৪৭ খুমী নাগরিক আটকবন্যপ্রানী সুরক্ষায় কাপ্তাইয়ে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ

মাটিরাঙ্গায় মেয়ে-ছেলে নাতিসহ আলীম পাশ করলেন সিরাজুল ইসলাম

৭৮

॥ মোঃ আবুল হাসেম,মাটিরাঙ্গা ॥

শেখার কোনো বয়স নেই ৫০ বছর বয়সে তা প্রমান করলেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী আছালং ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি তাইন্দং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতে এইচএসসি ও দাখিল পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর তিনি কৃতকার্য হবার গৌরব অর্জন করেন।

ছয় কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক সিরাজুল ইসলাম একা নন, চলতি বছরে তাঁর বড় মেয়ের ছেলে বড় নাতি মোঃ নাজমুল হাসান জিপিএ ৪.৬৭ এবং ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ জিপিএ ৪.১৭ পেয়ে খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে। একমাত্র ছেলে হাফেজ নেছারউদ্দীন আহমদ জিপিএ ৪.০০ পেয়ে চট্টগ্রাম বায়তুশশরফ কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেছে।

এছাড়াও গত দাখিল পরিক্ষায় তার (বড় মেয়ের মেয়ে) বড় নাতনি জিপিএ ৩.৭৬ পেয়ে তবলছড়ি ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেছে।

সিরাজুল ইসলাম এ বয়সে পরিক্ষাভীতি কে পেছনে ফেলে তিনি সব ধরনের ভয়, সংকোচ কে উপেক্ষা করে খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ ২.১৪ পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন।

১৯৮৭ সালে তাইন্দং মোহাম্মদীয় দাখির মাদরাসা থেকে তিনি দাখিল পাশ করেন। বাবার একমাত্র ছেলে হবার দরুন বৃদ্ধ বাবা-মার দেখভাল করার পাশাপাশি নিজেকে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন। তাই লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি সিরাজুলের। অদম্য সাহস ও অধ্যবসায় নিয়ে তিনি আবার লেখাপড়ায় নিজেকে বিলিয়ে দেন অকৃতকার্য হন এবারের আলিম পরিক্ষায়।

সিরাজুল ইসলাম একই সাথে ২০০৩-২০১১ সালে তাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ১৯৯২-১৯৯৭ সালে তাইন্দং ১নং ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।

পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বাবা-ছেলে-মেয়ের পশের খবরে আনন্দের বন্যা বইছে সীশান্তঘেঁষা আছালং ইসলামপুর এলাকার মোঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়িতে। এসময় প্রতিবেশী ও স্বজনরা অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসেন তাদের বাড়িতে। স্বজনদের কেউ কেউ নিয়ে আসেন ফুল ও মিষ্টি হাতে নিয়ে। তাঁর বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশীরা। তাদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা।

সিরাজুল ইসলামের ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ আমাদের ভাই-বোনের ফলাফলের চেয়ে বাবার ফলাফলে আমরা গর্বিত মন্তব্য করে বলেন, ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় যে সাফল্য এনে দিতে পারে তার অনন্য দৃষ্টান্ত আমার বাবা।

দীর্ঘ বিরতির পর লেখাপড়ার তাগিদ অনুভব করলেন কেন জানতে চাইলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার কোন বয়স নেই। ফলাফল ঘোষনার পর ছেলে-মেয়ে আর নাতীর সাথে নিজের কৃতিত্বের খবর পাওয়ার সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে সুখকর মুহুর্ত,এটা কখনো ভুলে যাবার মতো নয়। নিজের লেখাপড়া চালিয়ে যাবার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,পরিবারের সকলে চাইলে আমি লেখা পড়ার ধারা অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি জানান।