শিরোনাম
চাঁদাবাজরা থার্ট পার্টি হলে দ্রব্যমূল্যের দামতো বাড়বে: উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যানকাপ্তাইয়ে বিজিবির হেফাজত থেকে চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নিলতথ্য পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বিজিবি’র অভিযানে ভারতীয় পণ্য জব্দবাঘাইছড়িতে বিজিবির অভিযানে অস্ত্র-গুলি সহ বিদেশি সিগারেট উদ্ধারপার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপিপর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম জোরদার প্রয়োজন: ওয়াদুদ ভুঁইয়া এমপিপার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক: দীপেন দেওয়ান, এমপিবান্দবানের রোয়াংছড়িতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বাজার শেড উদ্বোধনবান্দরবানের লামায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দিনমজুরের লাশ উদ্ধার

নিদের্শনা আসলে অবশ্যই সহায়তা দেওয়া হবে

আলীকদমে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে প্রচুর ধান ও সবজি ক্ষেত

৭৬

॥ সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম ॥

বান্দরবানের আলীকদমে মাতামুহুরি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, মঙ্গলবার রাতে বন্যার পানি কমে গেলেও বৃধবার সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের সামনের আলীকদম-চকরিয়া সড়কের উপর দিয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ আছে। ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় কাঁচা মালের দামও নিম্নমুখী। বুধবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে নিচু এলাকাগুলোতে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হচ্ছে আবারও।

কয়েকজন কৃষকরে সাথে কথা হলে তারা জানান, বন্যায় দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে ফসলের জমি, ফলে ফসল পঁচতে শুরু করেছে। নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ফসলসহ কয়েক শত বিঘা আবাদি জমি। পানি শিগগিরই নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, বরং সকাল থেকে পানি ফের বাড়ছে, ফলে এসব ফসল তোলার কোনো আশাও নেই। সেসব এলাকা প্লাবিত হয়নি সেসব এলাকার কৃষিপণ্য বাইরে নিতে না পারায় উচিত মূল্য দাম পাচ্ছে না কৃষক। তারা আরো বলেন,ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা নেমে এসেছে। বেশির ভাগ কৃষক এনজিও, ব্যাংক অথবা চড়া সুদে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণে টাকা এনে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করেন। এখন বন্যায় ফসল হারিয়ে তারা অন্ধকার দেখছেন।

স্থানীয় কৃষক সোহরাব হোসেন বলেন, আমার চার কানি ধান পানিতে ডুবে গেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ধান লাগিয়ে ছিল। তাঁর মতো অনেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে ধান ও সবজি চাষাবাদ করেছে। এখন ঋণের টাকা শোধ করবে কিভাবে আর খাবে কি, চিন্তায় পড়েছে। চৈক্ষ্যং চিনারী বাজারের শহিদুল আলম বলেন, নদীর তীরবর্তী এলাকায় ২ একর জায়গায় পেঁপে বাগান ছিল কিন্তু বন্যায় পুরো বাগানটিই পানির নিচে। নিজের সব পুঁজি এখন পানির নিচে। আরেকজন কৃষক আশেক উল্লাহ্ জানান, ধানের চারা রোপণ করেছেন কিন্তু বন্যায় সব পানিতে চলে গেছে, সাথে একটি পানির মেশিনও পানিতে। বন্যায় পুকুর ডুবে গেছে, সব মাছ চলে গেছে এখন কষ্টের সবকিছু শেষ হয়েছে বন্যায়।

২ নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস রহমান বলেন, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নে প্রায় ১ কোটি টাকার সফল নষ্ট হয়েছে। কৃষকরা একেবারে পথে বসে গেছে, অনেক পরিবারের ঘরে খাবারও নেই। তিনি আরও বলেন, আজ সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল আবারও বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। আমার ব্যাক্তিগত ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু পারছি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সায়েদ ইকবাল জানান, নিম্নাঞ্চলের যেসব ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে তাদেরকে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। যেসব কৃষকের ফসল পানিতে ডুবে গেছে তাদের জন্য সরকারি ভাবে কোন নির্দেশনা এখনো আসেনি। তালিকা তৈরী ও প্রণোদনা দেওয়ার নিদের্শনা আসলে অবশ্যই সহায়তা দেওয়া হবে।