শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবিকার সুরক্ষায় নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীবাঘাইছড়িতে অবৈধভাবে মজুদ করা সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার সেগুন কাঠ জব্দবান্দরবনের থানচিতে হামের সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সীমান্তের মানুষওমাটিরাঙ্গায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার বিতরণখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি লিচুর মৌ মৌ গন্ধে মুখর বাজার এলাকাচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীরাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধারখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকাপ্তাইয়ে মৎস্যজীবিদের মাঝে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ

বান্দরবানের পাহাড়ে দেশ-জাতি ধ্বংসকারী বহুত বান্দরের উৎপাত বাড়িয়া গিয়াছে

৪২

ক্রিং ক্রিং, এ্যঁ…লো, কি গো জেঠা তুমি ঠিক আছোতো, গত সপ্তাহের খবরাখবর লইয়া তোমাগোর দরবারে-দরবারে, টেবিলে-টেবিলে কারেন্ট হাজির হইয়াছি। এই শীতে কোভিট-১৯ তো কষিয়া চালাইলেও এইবার আমাগো শেখ হাসিনা জেঠি ব্যাটা করোনার টুঁটি চাপয়া ধরিয়াছে। এই বজ্জাতের হাড্ডি গোটা পৃথিবীর জেঠা-জেঠির অস্থিমজ্জাও চুষিয়া যাইতেছে। পৃথিবীর লাখ লাখ জেঠা-জেঠিগোর জীবন সাঙ্গ করিয়া বন্ধন ছিন্ন করিয়াছে। তার মইধ্যে সমাজের দুস্কৃতকারী, ধর্ষক, বখাটে, ইভটিজার, লুটপাটকারী, মাদক বিক্রেতা, টেন্ডারবাজ, তেলবাজ, অস্ত্রবাজ, দালালবাজ, ভুমিদস্যু, চাঁপাবাজগোর বিষয়ে দু-চারটি কথা ক্রমান্বয়ে লিখিয়াই যাইতেছি। ভাই পো-রে, আইন আছে কঠোর দমন নাই, নিপীড়ন, নির্যাতন, বিতারণ আছে ভালো শাসন নাই। পাহাড়ের চুড়ায়, খাদে, চিপায়, নালায়, ঝিড়িতে, হ্রদের ধারের অভাগা জেঠা জেঠিরা কোন দুনিয়ায় তাইনেরা বসবাস করিতেছে বলিয়া খালি অভিযোগ-অভিযোগ। আমি জেঠাও শাররীক মানসিক অর্থনৈতিক বেকায়দায়। ভক্তরাও খালি কহেন অ-জেঠা আমরা বাঁচি, মরি আর ঝুলিয়া থাকি আপনে অন্তত ভালা থাকিবেন। ঐ জেঠা জেঠিগোরে কি বলিব আমিও বিপদ সামলাইতেই পারিতেছিনা। ভাইপো-রে বুড়ো বুড়িরাই কহিত যে নাকি সহে সে নাকি বরকত পাইয়া থাকে। বহু হর্তাকর্তা আইজ দিতাছি কাইল দিতাছি বলিয়া চড়কার মতন ঘুরাইতেছে, আবার দুই চাইর কলম লেখিলেই খালি কহেন অ জেঠা, গা তো পোড়াইতেছে। আমিওযে পুড়িয়া মরিতেছি, সইতেও পারিতেছি না, বরকতও পাইতেছি না, কিছু বলিতেও পারিতেছিনা, জমাজাটিও করিতে পারিতেছিনা, খালি চিন্তা, আর চিন্তা….

ভাই পো-রে পুরানে বুড়ো-বুড়িরা কহিতো ওজন বুঝে ভোজন দে, মন বুঝে ধন দে, লা-আ-ভ বুঝে ঝাঁপ দে। এক দিকে জেঠা জেঠিগোর ঠেলাগুতো অন্য দিকে ভাই পো আর জেঠা-জেঠিগোর ওয়েটিং, এইসব চিন্তা লইয়া অধিক সময় চোখের পাতা রাইতেও খাড়াইয়া থাকে। আবার ফিজিসিয়ান কহিলেন জেঠির প্রেসার নাকি এখন হাই, তয় তাইনের চিল্লা-ফাল্লাও হাইফাই। আমি কি সমাজের জেটা জেঠিগোর সুখ দুঃখের বয়ান লিখিব নাকি জেঠিরে সামাল দিব ঐ হিসাবও মিলাইতে পারিতেছি না। প্রতিদিনই ভোর সকালেও দেখি জেঠি বুকে হাত দুইখান লইয়া ঘুমের ঘোরেও যেন জেঠারে ঘায়েল করিতে পরিকল্পনা করিতেছে। জেঠাও হ¹ল মানুষ-আমানুষগোর খবরাখবর লইয়া বাড়ি ফিরিলেও রাইতে তাইনের সেবাও করিতে হইতেছে। আবার বহুত জেঠা-জেঠি কহিলো তাইনেগোরে নাকি প্রেসক্রাইব করিতে, জেঠি হইতে কিভাবে রক্ষা পাওন যায়। এই হইলো কাটা ঘা’এ নুন ছিটানো। আরে জেঠার নিজের প্রেসক্রাইব কারে জমা করিবো হেই চিন্তা লইয়া উপর ওয়ালার দেয়া ব্ল্যাক চুল হোয়াইট হইতেছে তার মইধ্যে জেঠা-জেঠিগোর যত তালিমালি। রাইতে জেঠিরে দুই চাইর কথা শুনাইয়া দিলেই পেট্রোল বোমার মতন ঢাস ঢাস করিতে করিতে জীবনটারে ঠাঁসা বানাইয়া দেয়। হেই সময় মনে হয় লাইফটা রেস্টুরেন্টের পরটার মতন হইতেছে। সকালে বিছানা ছাড়িতে দেরি হইয়া পড়ে। পাহাড় পর্বতের খেটে খাওয়া মানুষ অ-মানুষগোর সুখ দুঃখের খবর হ¹ল জেঠাগোর নিকট উত্তাপন করিতে হিমশিমও খাইতেছি। নতুন করিয়া বিশে^র ভাইরাস করোনাতো কারো কথাই হুনিতে চাহে না। খালি ধরে আর মারে। মরিলে নাকি ছুইতেও পারে না। সমাজের বহু ভাইরাসের মানবতা কিছুটা থাকিলেও এই ভাইরাসের দেখি মানবতার মা-ও নাই, বাপও নাই। আবার কুঞ্জ হইতে বাহির হইলেই ভাইপোগোর নজরবন্দি, তার মইধ্যে বিনা বেতনে চাকুরী ব্যাটা ছোট্ট জেঠার পাঠশালায় কামিং গোইং আপাতত বরবাদ। যত নষ্টের মূল হইলো করোনা-১৯। বেকার এই ছোট্ট জেঠাও দেখি করোনার বান লইয়া খালি প্রশ্নের রান করিতে ওস্তাদ, বায়না ধরে জঙ্গল দেখিবো, পাহাড়-নদী-নালা দেখিবো। আমি জেঠা যে কোন খানে লুকাইবো, খুবই চিন্তায় আছি…

চাই জেঠা কহিলো এইবার তিন পাহাড়ের আনাচেকানাচে বৈসাবী উৎসব পালিত হইবে ছোট্ট পরিসরে। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়া গেলে পাহাড়ী নেতারা এই সিদ্ধান্ত নিয়াছেন। কথা হইলো আগেতো জীবন তার পর না উৎসব। দেশের যে পরিস্থিতি তাহাতে হ¹লকেই সঠিক সিদ্ধান্ত লওনের দরকার, চিন্তায় আছি…

হক জেটা কহিলো, বান্দরবনের নাইক্ষংছড়িতে পুলিশ অভিযান চালাইয়া ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক বিক্রেতাকে আটক করিয়াছে। গোপন সংবাদ পাইয়া পুলিশ গেল বুধবার রাইতে ঘুমধুম এলাকায় অভিযান চালাইয়া এই কারবারীরে আটক করিয়াছে। বৃহস্পতিবার মইধ্য রাইতে বিজিবির জোয়ানরা রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন হইতে ১০হাজার পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী দুইজনকেই আটক করিয়াছে। কথা হইলো বান্দরবানের পাহাড়ে দেশ-জাতি ধ্বংসকারী বহুত বান্দরের উৎপাত বাড়িয়া গিয়াছে। আমাগো আইনসৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা কষিয়া তল্লাসী চালাইলে হ¹লই ধরা খাইবে চিন্তায় আছি…

কবির জেটা কহিলো কাপ্তাইয়ের ওয়া¹া ইউনিয়নে বিস্কুটের প্রলোভন দেখাইয়া লুইচ্চা অমল তালুকদার এক শিমুকে ধর্ষণ করিয়াছে এই অভিযোগ পুলিশ গেল মঙ্গলবার রাইতে ব্যটারে আটক করিয়াছে। ধর্ষণের শিকার শিশুর পরিবার কাপ্তাই থানায় মামরা দায়ের করিলে পুলিশ ধর্ষককে দ্রুত আটক করে। এই অসতের দ্রুত বিচার করিয়া শাস্তি নিশ্চিত করনের দরকার, চিন্তায় আছি…

আজগর জেঠা কহিলো, রাজস্থলীতে সীমান্ত সড়কের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক সোহেল মালামাল পরিবহনকারী বড় গাড়ির ধাক্কায় মারা গিয়াছে। থানার পুলিশ জেঠারাও তাই কহিলো। হায়রে পোড়া কপাইল্লা জীবন বাঁচাইতে পাহাড়ে আসিয়াও জীবনটারে ধরিয়া রাখিতে পারে নাই। কথা হইলো অভাগারা অভাগাই থাকে। এত্তবড় কাজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার না করনের কারনে সোহেলরে এইভাবে মরিতে হইলো, চিন্তায় আছি…

আরিফ জেঠা কহিলো, হেফাজতের নেতার পক্ষে সাফাই গাহিতে যাইয়া রাঙ্গামাটিতে ছাত্রলীগের দুই নেতার পদবীতে বহিস্কার। কথা হইলো এই জেঠারা কখন কি করিরব, বলিবে তা লইয়া ভাবেনা। মুখে আসিলেই ফটর ফটর করে। তয় দরীয় সিদ্ধান্তরে সম্মান দেখানো উচিৎ, চিন্তায় আছি…

ইসমাইল জেটা কহিলো, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও গুইমারাতে এইবার আনারসের বাম্পার ফলন হইলেও চাষিরা মাথায় হাত দিয়া বসিয়া থাকনের সময় ঘনাইয়াছে। লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়া আনারসের চাষ করিয়া গেলে ফলনেও ভালো কিন্ত লকডাউন হওনের কারনে এখন পাকা আনারস লইয়া মাথায় হাত দিয়া বসিয়াছে কৃষককুল। কথা হইলো করোনাতো জীবন যৌবন চুষিয়াই যাইতেছে, তারে বধ্ করিতে হইলে সামাজিক নিয়মই মানিতে হইবে, চিন্তায় আছি…

আমাগো জেলা পুরিষদ সদস্য অংসুছাইন চৌধুরীতো করোন পজিটিভ হইয়া এখুন হাসপাতালাইজড হইয়াছে। কাপ্তাই উপজেলা আমামীলীগের এই নেতা বর্তমানে চাঁটগার সার্জিস্কোপে ভর্তি হইয়াছে। তয় তাইনের সুস্থতার জইন্য আশির্বাদ। কথা হইলো হিসাব করিয়াই চলিতে হইবে, চিন্তায় আছি…

আবুল জেটা কহিলো, মাটিরাঙ্গায় সিএনজি চালক তাইনের যাত্রীর তিন লক্ষ টাকার চেক পাইয়াও সততার পরিচয় দিয়াছেন। স্বাক্ষরযুক্ত ঐ চেক যাত্রীরে খুঁজিয়া বাহির করিয়া তাইনের হাতে চেকসহ জরুরী নথিপত্রও বুজাইয়া দিয়াছেন। ঐ যাত্রী তাইনেরে দুই হাজার টাকা বকশিস দিলেও হেইডাও ফিরাইয়া দিয়াছেন। যাউ¹া এই মহানুভবতার জইন্য তাইনে উপরওয়ালা হইতে আরো ভালো পুরিষ্কার পাইবে। আমাগো সমাজে এমুন মানুষইতো দরকার, চিন্তায় আছি…

থোয়াই জেটা কহিলো, কাগড়াচড়ি পাহাড়ে যে যার মতনই পাহাড় কাটিতেই আছে কাটিতেই আছে। বাঁধা আপুত্তিতেও কোন ফলাফল হইতেছেনা। অর্থ শক্তি, পেশী শক্তি, রাজনৈতিক ভক্ত শক্তির দলের হোতারা এই আকামই টানা চালাইয়া যাইতেছে। আমাগো প্রশাসনের জেঠারা মাঝে মইধ্যে জরিমানা করিলেও আবারো একই চরিত্রে ফিরিয়া বসে। কথা হইলো পরিবেশ প্রকৃতিরে বাঁচাইতে হইলে ঐ পাহাড় খেকোদের জেলে ভরিয়া রাখিতে হইবে, চিন্তায় আছি…

আবুল জেটা কহিলো, শরনাথী টাকস্কফোর্স চেয়ারমন কুজেন জেঠা পাহাড়ি-বাঙালিরে কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া থাকিতে আহ্বান করিয়াছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাহিরে নয়, আমরা হ¹লই বাংলাদেশী। গেল মঙ্গলাবার তাইনে মাটিরাঙ্গার নেতাগোর সহিত মতবিনিময় সভায় এইসব কহিলো। কথা হইলো পাহাড়ে আকামের কলকাঠির ওস্তাদ বহুত ভাগে না হইলে রাতারাতি তেভাগাও হইয়া বসে। সামাজিক সহাবস্থান সুন্দর করিতে হ¹ল কর্তাগোর এক হইতে হইবে, চিন্তায় আছি…

আবার আমাগো মাত্তাল লেদু জেঠা কহিলো অপক্ষমতার অধিকারীরাতো রাজনৈতিক লেজুরবিত্তি করিয়া শহরের অসহায় জেঠা জেঠি বহুতেরে ছেঁচড়াইতেছে। বহুতের ফিরিকশন লাগাইয়া দিয়া চুইংগামের মতন লম্বা করিতেছে। লেদু কহিলো খালি জনগনরে ল্যাং মারনের তালে। ক্ষেমতারে ললিপপ ভাবিয়া লুটপাট-সুবিধা চালাইতে বহুতেরে পাঁটায় তুলিয়া ছেঁচিতেছে। চম্পক নগরের অসহায় এক জেঠির পরিবারের হ¹লরেই লুটেরার দল আছমকা গন্ডোগোল আর আবোল তাবোল দল বাঁধাইয়া হ¹লই হাতাইয়া নিতে গোল পাকাইতেছে। যা মনে হইতেছে মাত্তাল লেদু মধু খাইলেও হুঁস জ্ঞান ঠিকই আছে, চিন্তায় আছি…

ভাইপো-রে পার্বত্য এলাকায় আর কতো রকম-বেরকমের কান্ডকারখানা দেখিতে হুনিতে হইবো বুঝিতে পারিতেছিনা। রাজনীতির মাঠতো হঠাৎ করিয়া চুড়ান্ত গরম হইয়া পড়িবে। ঐ গরমে কে পোড়া আর কে আধপোড়া হইবে পাবলিক জেঠারা ডরে ভয়ে দিনাতিপাত করিতেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক জেঠা জেঠি কহিলেন সন্ধ্যার পর অনেকে ডরে ভয়ে স্থান ত্যাগ করিয়াও রাত্রি যাপন করিতেছে। আধিপত্য, চাঁন্দাপত্য, ঘায়েলপত্য, খাদ্যপত্য নানান অপকর্মপত্যর বিস্তার লইয়া কয়েক গ্রুপতো ফটর ফটর করিয়া খালি মানুষ মারিতে ওস্তাদ, ভাই-পো রে খালি দুঃখ আর দুঃখ আমি জেঠাও কখন জেলে ঢুকি এই চিন্তা লইয়া আরো বহুত ঘটনা বাকি থাকিলেও আইজ এই পর্যন্ত লিখিয়া ইতি টানিতেছি, তবুও চিন্তায় আছি….

ইতি-
পা.স.চি.জে.মি.ব.
১১ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিঃ