॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বিরিয়ানি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোঃ আব্দুল কাদের গাজী নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে মাটিরাঙ্গা পৌরসভাধীন ১০নং ইসলামপুর দারুল উলুম হেফজ ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম জানায়, বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের সময় অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে রাতে বিরিয়ানি খাওয়ানোর কথা বলে মাদ্রাসায় থাকতে বলেন। হেফজখানা বন্ধ থাকায় ওই শিক্ষার্থী থাকতে অনীহা প্রকাশ করলেও শিক্ষকের চাপে সে রাজি হয়। রাতে খাবার শেষে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই এমন একটি কক্ষে নিয়ে তাকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন শিক্ষক আব্দুল কাদের গাজী।
শিক্ষার্থী আরও জানায়, বারবার বাধা দিয়েও শিক্ষককে থামাতে না পেরে কৌশলে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক দ্রুত মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের গাজী আমার ছেলের সাথে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ করতে চেয়েছেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানে এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, ২৭ মার্চ শুক্রবার দিনভর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন মাদ্রাসার পরিচালক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের নেতা মাওলানা আক্তারুজ্জামান ফারুকী। তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, মাদ্রাসা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্ত শিক্ষককে হাজির করার জন্য চার দিন সময় দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি সমাধান করা হবে। তবে তিনি ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রচার না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহেদ উদ্দিন জানান, ঘটনাটি তারা অবগত আছেন। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।