বান্দরবনের থানচি বাজারে ময়লার দুর্গন্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত
॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র বাজার এলাকায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপ এখন জনজীবনের জন্য এক নীরব দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি কারণে এই সমস্যার দিন দিন বাড়ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশ দূষণ এবং পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাবে দুর্গন্ধের উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও তা সাময়িক। স্থায়ী কোনো সমাধান না থাকায় সমস্যাটি প্রকট হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এলেই বৃষ্টির পানিতে ময়লা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের জলাশয়, নালা ও সাঙ্গু নদীতে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বর্জ্য অপসারণের কার্যকর উদ্যোগ নেই।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টের অস্থায়ীভাবে ডাস্টবিন স্থাপন করা হলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অনেকেই নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য না ফেলে যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাঙ্গু নদীর নৌকাঘাট, পোস্ট অফিস সংলগ্নে সেতুর নিচে, চইওক্ষ্যং ঝুলন্ত সেতুর নিচে, পুরোনো বাসস্টেশন এলাকা এবং বাজার সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ জমে রয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান, প্লাস্টিক, পচনশীল খাদ্যবর্জ্য, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা হচ্ছে দিনের পর দিন। নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা না থাকায় এসব ময়লা জমে থেকে সৃষ্টি করছে দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশ।
সচেতনমহল বলছেন, থানচি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এই ময়লা-আবর্জনার কারণে পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে নোংরা পরিবেশ দেখে হতাশ হচ্ছেন। এতে স্থানীয় পর্যটন শিল্পের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, এ ধরনের পরিবেশে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েডসহ নানা পানিবাহিত ও জীবাণুবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। জমে থাকা ময়লার কারণে মশা, মাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকামাকড় দ্রুত বংশবিস্তার করে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, বাজার এলাকায় অস্থায়ীভাবে ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সেগুলো ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি খুব একটা নেই। থানচিতে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ শুধু একটি নান্দনিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সংকট। যার দ্রত সমাধান এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।