সন্তানদের বিহারমূখী করুন, ধর্মীয় গুরু যে ধর্মেরই হোক অসম্মান করবেন না
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
উপসংঘরাজ, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ ও অধ্যক্ষ সংঘারাম বিহার এর ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের বলেছেন, চিত্ত শুদ্ধ না থাকলে অশুভ শক্তি মানব সমাজকে গ্রাস করবে। ধর্ম শিক্ষার জন্য বৌদ্ধ সমাজের সন্তানদের বিহারমূখী করা দরকার। শনিবার (১৪মার্চ) সকালে ভেদভেদী বড়ুয়া সমাজ কল্যাণ সমিতি এর উদ্যোগে আয়োজিত বাৎসরিক সংঘদান ও অষ্টপরিস্কার দানা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপসংঘরাজ এ দেশনা প্রদান করেন।
পশ্চিমপাড়াস্থ সমিতির কার্যলয় এলাকায় আয়োজিত এ দান অনুষ্ঠানে স্বধর্মদেশক ছিলেন, ভদন্ত প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু, কাটাছড়ি বন বিহার, রাঙ্গামাটি সদর, ভদন্ত কীর্তিমান মহাথের, উপদেষ্টা পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ, ভদন্ত শীলজ্যোতি থের, অধ্যক্ষ, সংঘারাম পালি কলেজ, ভেদভেদী রাঙ্গামাটি, ভদন্ত করুনাপাল থের, অধ্যক্ষ, বুদ্ধাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহার, আসামবস্তী, রাঙ্গামাটি, ভদন্ত আনন্দপ্রিয় ভিক্ষু, অধ্যক্ষ, স্বধর্ম বৌদ্ধ বিহার, ঝুলিক্কা পাহাড়, রিজার্ভ বাজার, রাঙ্গামাটি।
এছাড়া ভেদভেদী বড়ুয়া সমাজ কল্যাণ সমিতি’র উপদেষ্টা এবং বয়োজেষ্ট্য উপাসকবৃন্দ সহ অন্যান্য বিহার কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সমিতির বিভিন্ন লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন, শুভ্র বড়–য়া (সেতু) আহ্বায়ক, সংঘদান উদযাপন কমিটি-২০২৬, ভেদভেদী বড়ুয়া সমাজ কল্যাণ সমিতি এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সানি বড়ুয়া, সদস্য সচিব, সংঘদান উদযাপন কমিটি-২০২৬, ভেদভেদী বড়ুয়া সমাজ কল্যাণ সমিতি।
উপসংঘরাজ, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ এর ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের তাঁর দেশনায় আরো বলেছেন, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ভেদভেদীস্থ সংঘারাম বিহার এ আগমন করেছি। শিক্ষা জীবনে আমার শিক্ষা গুরু ছিলেন, প্রেম লাল বড়ুয়া, যার বাড়ী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়। প্রবজ্জ্যা জীবনও শুরু হয়েছে সেভাবেই। ধর্ম প্রচার প্রসারেও বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর অবদান সুন্দর। গুরুজনদের দায়িত্ব হলো সন্তানদের ধর্ম শিক্ষার জন্য বিহারমূখী করা। সবার জন্য ধর্মশিক্ষা হলো চিত্ত শুদ্ধ না থাকলে অশুভ শক্তি মানব সমাজকে গ্রাস করবে।
ভদন্ত প্রজ্ঞাদর্শী ভিক্ষু, কাটাছড়ি বন বিহার তাঁর স্বধর্মদেশনায় বলেছেন, ধর্মী গুরু তিনি যে ধর্মেরই হোক তাঁকে কোন অবস্থাতেই অসম্মান করবেন না। এটি হলো বুদ্ধের আদেশ বৌদ্ধ এবং মানব সমাজের কাছে। বুদ্ধের সময় থেকেই গণতন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছে। বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে তিনি দেশনায় বলেন, বড়ুয়া জনগোষ্টীর অতীত ইতিহাস বলে যে তাঁরা ছিলেন মারমাগ্রী আর বড়ুয়া ছিল একটি সম্মানীয় উপাধি। তিনি দেশনায় বলেন, বনভান্তের উপদেশ হলো তিনটি বছর যদি পঞ্চশীল পালন করে তাহলে তিনি ধনী হবেন। উপাসক উপাসিকারা যদি শীল সঠিকভাবে পালন করে সুখ থাকবে, নির্বাণ পথ পরিচ্ছন্ন হতে থাকবে। অবিদ্যার জালে জড়ালে দুঃখ-অশান্তি পিছু ছাড়বে না।
এর আগে বুদ্ধ ধর্মীয় কির্তনীয়ার (গান) দল বিহার থেকে ভিক্ষু সংঘকে দানানুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসা হয়। পরে ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে ভিক্ষ সংঘকে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ সমাজের উপাসক উপাসিকাগনের বৃহৎ অংশের সমাগম ঘটে। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে ভালো অবস্থান রাখায় সংঘদান উদযাপন কমিটি-২০২৬ই এর পক্ষ থেকে সনদ এবং ক্রেষ্ট প্রদান করা হয় এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে ভেদভেদী বড়ুয়া সমাজ কল্যাণ সমিতি এর উদ্যোগে প্রতিবছরই বাৎসরিক সংঘদান, বুদ্ধমূর্তি দান অষ্টপরিস্কার দান সহ নানাবিধ দান অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়ে আসছে।