॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পার্বত্য অঞ্চলে কৃষিপণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা গেলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং কৃষক ও উদ্যোক্তারা সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)’র যৌথভাবে আয়োজনে কোল্ড স্টোরেজ সম্ভাব্যতা যাচাই কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার এ কথা বলেন।
বুধবার (১১মার্চ) সকালে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের এনেক্স ভবনে আয়োজিত এ কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি ছিলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অ্যালেক্সিউস চিছাম, হেড অব, আইএলও চট্টগ্রাম প্রজেক্ট অফিস ।
আলোচনায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর সহযোগিতায় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ProGRESS Project এর মাধ্যমে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের যে কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে তা এখানকার জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল বয়ে আনবে। পার্বত্য অঞ্চলে কৃষিপণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। মিনি (কুলবট) কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা গেলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং কৃষক ও উদ্যোক্তারা সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বাজারজাত করতে পারবেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন এশিয়ার পর্যটন সমৃদ্ধ দেশ নেপালে মিনি (কুলবট) কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করে সেখানকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়েছে, কোল্ড স্টোরেজ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন, বিভিন্ন ধরনের ফল-মূল, সবজি স্বল্প/দীর্ঘমেয়াদী রাখা যায়। মিনি (কুলবট) কোল্ড স্টোরেজে কম খরচে ফল-মূল, সবজি সংরক্ষণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা যায়। এই অঞ্চলের কৃষকরা যাতে এই প্রকল্পের পুরো সুফলতা ভোগ করতে পারেন এই আশা ব্যক্ত করেন।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই আইএলও-এর পাইলট প্রকল্পকে স্বাগত জানান। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যাতে আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা ভোগ করতে পারে সেজন্য তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলোকে একত্রে কাজ করার আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, আমরা একসাথে কাজ করতে পারলে তিন পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ আর পিছিয়ে থাকবেনা।
গেস্ট অব অনার এর বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, তিন পার্বত্য জেলার কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা এবং কৃ্ষি উদ্যোক্তা যারা আছেন তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোল্ড স্টোরেজ সর্ম্পকে ধারণা এবং অভিজ্ঞতা লাভ করার ব্যবস্থা করা হলে এই প্রকল্পটি সফল করা সম্ভব হবে। এছাড়া রাঙ্গামাটিতে কচুরিপানার উপর ভাসমান শাক-সবজি উৎপাদন করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য তিনি সভায় আহবান রাখেন।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে অ্যালেক্সিউস চিছাম, হেড অব, আইএলও চট্টগ্রাম প্রজেক্ট অফিস সৌর শক্তির মাধ্যমে কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের প্রকল্পের ধারণা দেন। তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন ধরনের ফলমূল উৎপাদন হয়। কৃষকদের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এই ফলমূল গুলোকে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, এই কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে উপকৃত হন এটাই প্রকল্পের লক্ষ্য। মিনি (কুলবট) স্থাপনের সম্ভ্যাবতা যাচাইকারী কনসালটেন্ট টীম Global MindLens consultancy firm মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। রিপোর্ট উপস্থাপনের পর মুক্ত আলোচনায় কর্মশালায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন।
উন্মুক্ত আরোচনায় পরিষদেও সদস্যবৃন্দরা বলেন, কুলবট প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিপণ্য স্বল্প সময়ে (৭-১৫ দিন) সংরক্ষণ করে দ্বিগুন মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব। সুতরাং এই ধরণের প্রযুক্তি পার্বত্য চট্টগ্রামের উৎপাদন এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে। কর্মশালায় তিন পার্বত্য জেলায় পাইলট ভিত্তিতে মিনি (কুলবট) কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।