শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় তরমুজের বাজার জমজমাট, লেবুর দামে স্বস্তি

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
পবিত্র মাহে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ফলের বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইফতারে তৃষ্ণা নিবারণ ও আপ্যায়নের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে বাজারে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় লেবুর দাম কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

মাটিরাঙ্গায় তরমুজের বাজারে এখন ক্রেতাদের ভিড়। স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া এলাকার ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এলিটগঞ্জ থেকে ৫১৫টি উন্নত মানের মিষ্টি তরমুজ নিয়ে এসেছেন। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে নিজে খাওয়ার পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তরমুজ পাঠানোর একটি সামাজিক প্রচলন থাকায় বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। পাইকারি বাজারে চড়া দাম এবং পরিবহন খরচ ও শ্রমিক মজুরি বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি বলে জানান তারা। লেবুর দামে স্বস্তি, অপরিবর্তিত শসা ও খিরা রমজানের শুরুতেই লেবুর আকাশচুম্বী দাম নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে অস্বস্তি থাকলেও বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। আগে যেখানে প্রতি হালি লেবু ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, সরবরাহ বাড়ায় বর্তমানে তা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমে এসেছে।তবে লেবুর দামে স্বস্তি থাকলেও শসা ও খিরার বাজার এখনও চড়া। বাজারে প্রতি কেজি শসা ৬০ টাকা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খিরা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে প্রতি হালি কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এলিটগঞ্জ থেকে ভালো মানের ও মিষ্টি তরমুজ সংগ্রহ করে এনেছি। পাইকারি বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি ছিল, তার সঙ্গে পরিবহন খরচ, শ্রমিক ভাড়া ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় আমাদের ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। সীমিত ব্যবসা করি, আমরা চেষ্টা করি ক্রেতাদের ভালো মানের ফল দিতে, যাতে তারা সন্তুষ্ট থাকেন। রমজান মাসে তরমুজের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, বিশেষ করে ইফতারের সময়। সে কারণে বিক্রিও এখন বেশ সন্তোষজনক। আশা করছি পুরো রমজানজুড়েই এ ধারা বজায় থাকবে।

স্থানীয় ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে ঠান্ডা তরমুজ শরীর ও মনে প্রশান্তি আনে। দাম কিছুটা বেশি হলেও বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে কিনতে হচ্ছে। তবে লেবুর দাম অর্ধেক কমে যাওয়ায় আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বড় সুবিধা হয়েছে। গৃহিণী জামিলা বেগম জানান, লেবুর দাম কমায় ভালো লাগছে, তবে শসা ও খিরার দাম এখনও কমেনি। এতে ইফতারের বাজেট সামলাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, ফল বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, লেবুর সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কমেছে। কিন্তু শসা ও খিরার সরবরাহ কম থাকায় এর দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের মতে, রমজানে মুখরোচক ও প্রচলিত ফলের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও বেচাকেনা বেশ স্বাভাবিক ও উৎসবমুখর।