শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

বান্দরবনের থানচিতে একাডেমি’র ভবন নির্মাণে কাজে অনিয়মের অভিযোগ

১৭

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম নেটওয়ার্ক বিহীন তিন্দু নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমি ভবন তিনতলা বিশিষ্ট ফাউন্ডেশনে প্রথমতলা বাস্তবায়ন কাজের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে মানসম্মত কাজ থাকলেও বাস্তবে অন্যচিত্র বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, ভবন নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, কংক্রিট, অপর্যাপ্ত রড এবং মানহীন বালু ও অপরিপক্ক পাথর। সিমেন্টের অনুপাত নিয়েও অভিযোগ। এসব নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, স্বাভাবিক চাপই দীর্ঘদিন সহ্য করতে পারবে না ভবনটি এমন আশঙ্কা তাদের।

জানা গেছে, ২০২২- ২৩ অর্থবছরে তিন্দু নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা বিশিষ্ট একাডেমি ভবন নির্মাণের ৮০ লাখ টাকা বাজেটের প্রকল্প দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। সাড়ে চার বছর আগে বাস্তবায়ন কাজের রেমাক্রী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি মালিকানা আগমা এ্যান্টারপ্রাইজ ঠিকাদার সংস্থাকে কার্যাদেশ দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই একাডেমি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে নিম্নমানের কংক্রিট, অপরিশোধিত বালু ও কংক্রিটের সাথে মিশে অপরিপক্ক পাথর স্তুপ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফাউন্ডেশনের ঢালাইয়েও এসব নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এলাকাবাসীরা জানান, দুর্গমতার অজুহাতে কি পাহাড়ে নিম্নমানের কাজ চাপিয়ে দেওয়া হবে? তিন্দু এমনিতেই যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকা। প্রশাসনিক নজরদারি কম থাকার সুযোগে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে যদি অনিয়ম হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার দায় কে নেবে? পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে—এমন বাস্তবতায় দুর্বল ফাউন্ডেশনের ওপর ভবন দাঁড় করানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় বাসিন্দা ক্রানিঅং মারমা, নুচমং মারমাসহ অনেকই বলছেন, তিন্দু পাহাড়-নদীঘেরা অপার সৌন্দর্যই যেখানে পর্যটনের মূল পুঁজি, সেখানে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন সেই প্রাকৃতিক রূপকে নির্মমভাবে ধ্বংস করছে। এতে শুধু সৌন্দর্যই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এবং অপরিপক্ব লোকাল পাথরসহ নিম্নমানের কংক্রিট ও বালু ব্যবহার করে একাডেমি ভবন ফাউন্ডেশন স্থাপন করা হয়েছে।

এদিকে একাডেমি ভবন নির্মাণকাজে নিয়োজিত মিষ্ট্রি সোহেল বলেন, চার কক্ষ বিশিষ্ট তিনতলা ভবনে ব্যাশকাটা ও ধালাই করা হয়েছে। ৭জন শ্রমিক ১৭দিন ধরে এপর্যন্ত কাজ করেছি। আমাদের এবং নির্মাণকাজে পরিচালনা করছে ঠিকাদার হ্লাচিংমং মারমা।

তিন্দু নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন বলেন, স্কুলের একাডেমি ভবন নির্মাণকাজ চলছে, আমি প্রতিদিনই একবার হলেও দেখে আসি। এবং স্কুলের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, একাডেমি ভবন নির্মাণধীন রয়েছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে বিষয়ে জানা নাই।
একাডেমি ভবন নির্মাণের ঠিকাদার যুবলীগের নেতা শৈবাচিং মারমা বলেন, আগমা এ্যান্টারপ্রাইজ সংস্থার মালিক মুইশৈথুই মারমা রনি মাধ্যমে ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ের ভবন নির্মাণকাজ করছি। একই সাথে রেমাক্রী বাজার বাসিন্দা হ্লাচিংমং মারমাও এই কাজের শেয়ার রয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের জেলা ইউনিটে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, ডিম পাহাড় হয়ে তিন্দু পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন পৌঁচ্ছাছে। একাডেমি ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে কোনো সুযোগ নেই। অনিয়ম-দুর্নীতির এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পাহাড়ে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের নামে যদি নিম্নমানের নির্মাণকাজ হয়, তবে তা শুধু অর্থের অপচয় নয়—এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণে ওঠা এসব অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এখন সময়ের দাবি।