শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

জাতীয় নির্বাচনে রাঙ্গামাটিতে বিএনপির ঘরে ধৈর্য্যের ফল দুই লাখের অধিক ভোট

১১

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
অবশেষে দীর্ঘ বছরের ধৈর্য্যের অবসান ঘটিয়ে এবার রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনেও জনগনের ভোটের ফল জেলা বিএনপি’র ঘরে তুলেছে দুই লাখের অধিক ভোট। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বস্থানীয়দের ফ্যাসিজমের শিকার জেলা বিএনপি’র নেতৃত্বস্থানীয়রা নিজেদের মাঠও ছেড়ে দিতে হয়েছিল রাজনীতির শোষক শ্রেণীর কাছে। তাই ষোল বছরে একছত্র শোষণ করে রেখেছিল রাজনীতিকেও। ২৪’র ছাত্র জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক শোষন আর ফ্যাসিজমের অবসান ঘটে জনগনের হাতেই। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুধু পাহাড়ে নয় দেশব্যাপীই বিএনপিকে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করেছে ছাত্র-জনতা। প্রতিক্ষা আর সকল ষড়যন্ত্রকে মুষ্ঠিবদ্ধ চেপেধরে ধৈর্য্যের ফল ঘরে এসেছে বিএনপি’র এই বিজয়।

দলীয় বিভিন্ন নেতৃত্বস্থানীয় সুত্রগুলো জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির অতীতের বিজয় দেখলে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সেবার মনিস্বপন দেওয়ানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী দিপংকর তালুকদার। আর তখনই আওয়ামীলীগ বুজতে পেরেছিল বিএনপি’র মানিস্বপন বা মনিস্বপনের বিএনপি’কে আর পরাজিত করা যাবে না। তাই আওয়ামীলীগের ফ্যাসিজম নেতৃত্ব রাজনীতিকেও শোষনের হাতিয়ার বানিয়েছিল। এখানে পরবর্তীতে বিএনপি’র নেতৃত্বকে আর রাজনীতির মাঠে দাঁড়াতেও দেওয়া হয় নাই নানান কৌশলে। আওয়ামী ফ্যাসিজমের নেতৃত্বের বিষের বিষে বিএনপি’র রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শোষন করে রেখেছিল। ফলে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র বলিষ্ট নেতৃত্বকে চাপিয়ে রাখা হয়। ২০০৮ পরবর্তী মনিস্বপনের অনুপস্থিতিতে বিএনপি’র হাল ধরেন সাবেক যুগ্ম জজ, অ্যাডভোটেক দীপেন দেওয়ান। তাঁর নের্তৃত্বে দলকে গুছিয়ে রাখতে দলের অংগসংগঠনের তৃণমুল নেতৃত্ব পাহাড় সমতল সবখানেই চষে বেড়িয়েছেন।

জেলা বিএনপি’র দলীয় সুত্র গুলো জানায়, এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ফ্যাসিজম নেতৃত্ব রাজনীতিকেও শোষনের হাতিয়ার বানানোর বিরুদ্ধে জনগন বলিষ্টভাবে জবাব দিয়েছেন ভোটের মাধ্যমে। শুধু তিন পার্বত্য চট্টগ্রামে নয় বরং দেশব্যাপী জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে দেশের মানুষ নিরঙ্কুশভাবেই জিতিয়ে দিয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে তাদের লুটেরা নেতৃত্বস্থানীয়রা ক্ষমতাকে ফ্যাসিজম এবং রাজনীতিকে শোষনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে। দেশের উন্নয়ন হয়েছে বলে জাতি স্বীকার করছে, কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার, দেশের সম্পদ লুটপাট সহ একছত্র আধিপত্যবাদ এর বিরুদ্ধে জনগন রুখে দিয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারী-২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে। তবে বিএনপি যে শিক্ষা নিয়েছে তাতে দেশের মানুষের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে আরো অটুট করতে কাজ করবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগনের কাছে দেওয়া কমিটমেন্ট অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন।

সুত্র আরো জানায়, রাঙ্গামাটি-২৯৯ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারিভাবে তিনি ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্ধীরা যথাক্রমে পহেল চাকমা (ফুটবল) প্রতীকে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২২২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক (রিকশা) প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৫১৫ ভোট। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির প্রার্থী জুঁই চাকমা (কোদাল) পেয়েছেন ১ হাজার ৭১ ভোট। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী অশোক তালুকদার (নাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৭৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ জসিম উদ্দিন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৭২ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের মোঃ আবুল বাশার (ট্রাক) প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট। এছাড়ও বহুল আলোচিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পড়েছে ৭১ হাজার ৬৯৯ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৫।
এবারের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান শুরু থেকেই পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ ভোটারদের নজর কেড়েছিলেন। রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলা ও দুটি পৌরসভায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করার মতো। এছাড়াও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে এক অভূতপূর্ব গণজোয়ার দেখা দেয় বলে দলের একাধিক নেতৃবৃন্দরা জানান।