শিরোনাম
সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ জরুরি, খাগড়াছড়িতে উঠান বৈঠক২৪ বছর শিকলে বাঁধা হাতি ‘বাহাদুর’ বন বিভাগ জেনেও না জানার ভান করে আছেস্থানীয় জনগোষ্ঠিরা যাহাতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয় এমন প্রকল্প গ্রহন করা হবে১১ আরই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদানবান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে বার্মিজ কারেন্ট জালসহ ৪ জন আটকখাগড়াছড়িতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮’তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনবান্দরবানের লামায় ৩ দিনের মধ্যে পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশঅনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিএনপিতে কোন স্থান নাইমানিকছড়িতে বাজার শেড দখলমুক্ত সহ পুনঃস্থাপনের দাবী‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কাপ্তাইয়ে স্কুল পর্যায়ে ছাত্রদলের প্রচারণা

কাক পাখি কি হারিয়ে যাচ্ছে, ভোরসকালে পাখির কলরব কমে গেছে অনেক

১৮

॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥
‎একসময় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় ভোর হলেই অন্য সকল চেনা পাখির সাথে কাকের ডাকও ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। বাজারপাড়া, গ্রামাঞ্চলের বাড়ির উঠান, গাছের ডাল কিংবা বিদ্যুতের তারে বসে থাকা কাক ছিল খুবই পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই অনেকেরই জানার আখাঙ্খা কাকগুলো কোথায় গেল ?

পানছড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, আগের মতো কাকের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও দল বেঁধে কাক দেখা যেত, এখন তা হাতে গোনা। বিশেষ করে বাজার এলাকা ও বসতিপূর্ণ অঞ্চলে কাক প্রায় অনুপস্থিত।

পরিবেশ সচেতনদের মতে, এর পেছনে অন্যতম কারণ নগরায়ন ও গাছপালা কমে যাওয়া। নতুন বসতি, দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় বড় গাছ উজাড় হচ্ছে, যা কাকের বাসা বাঁধার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যের সংকটও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আগে উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট খাবার কাকের সহজ খাদ্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো আর তেমন পাওয়া যায় না।

এ ছাড়া কৃষিজমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের প্রভাবও কাকের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব বিষাক্ত উপাদান কাকের খাদ্যচক্রে ঢুকে তাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করছে।
‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাক প্রকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছন্নতাকর্মী। মৃত প্রাণী ও বর্জ্য পরিষ্কার করে তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। পানছড়িতে কাকের সংখ্যা কমে যাওয়া শুধু একটি পাখি হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং পরিবেশগত ঝুঁকির রয়েছে এটিও একটি সতর্কবার্তা।

এদিকে প্রকৃতিপ্রেমী ও সচেতন মহলের দাবি, এখনই যদি গাছ লাগানো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাণীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে পানছড়িতে কাক শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। এছাড়াও অন্যান্য পাখিগুলো ধীরে ধীরে এলাকাছাড়া হবে। তাই পরিবেশ সচেতন সকলের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।