শিরোনাম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রামগড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানরামগড় স্থলবন্দর অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলরাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আর নেইবান্দরবানের লামায় বজ্রপাতে শিশু সহ নিহত ২, আহতকাপ্তাইয়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাইঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাইকাপ্তাই শিল্প এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরিবান্দরবানের লামায় মৌচাক এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতমানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

কাক পাখি কি হারিয়ে যাচ্ছে, ভোরসকালে পাখির কলরব কমে গেছে অনেক

১৮

॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥
‎একসময় খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় ভোর হলেই অন্য সকল চেনা পাখির সাথে কাকের ডাকও ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। বাজারপাড়া, গ্রামাঞ্চলের বাড়ির উঠান, গাছের ডাল কিংবা বিদ্যুতের তারে বসে থাকা কাক ছিল খুবই পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই অনেকেরই জানার আখাঙ্খা কাকগুলো কোথায় গেল ?

পানছড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, আগের মতো কাকের উপস্থিতি চোখে পড়ে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও দল বেঁধে কাক দেখা যেত, এখন তা হাতে গোনা। বিশেষ করে বাজার এলাকা ও বসতিপূর্ণ অঞ্চলে কাক প্রায় অনুপস্থিত।

পরিবেশ সচেতনদের মতে, এর পেছনে অন্যতম কারণ নগরায়ন ও গাছপালা কমে যাওয়া। নতুন বসতি, দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে ওঠায় বড় গাছ উজাড় হচ্ছে, যা কাকের বাসা বাঁধার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যের সংকটও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আগে উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকা উচ্ছিষ্ট খাবার কাকের সহজ খাদ্য ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেগুলো আর তেমন পাওয়া যায় না।

এ ছাড়া কৃষিজমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহারের প্রভাবও কাকের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব বিষাক্ত উপাদান কাকের খাদ্যচক্রে ঢুকে তাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করছে।
‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাক প্রকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরিচ্ছন্নতাকর্মী। মৃত প্রাণী ও বর্জ্য পরিষ্কার করে তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। পানছড়িতে কাকের সংখ্যা কমে যাওয়া শুধু একটি পাখি হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং পরিবেশগত ঝুঁকির রয়েছে এটিও একটি সতর্কবার্তা।

এদিকে প্রকৃতিপ্রেমী ও সচেতন মহলের দাবি, এখনই যদি গাছ লাগানো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাণীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে পানছড়িতে কাক শুধু স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। এছাড়াও অন্যান্য পাখিগুলো ধীরে ধীরে এলাকাছাড়া হবে। তাই পরিবেশ সচেতন সকলের এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।