॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে জুলুম, দখল ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই বোন নাছিমা বেগম ও হোসনেয়ারা বেগম। তাদের এক ভাই এর ছেলেরা পৈতৃক সম্পদ তাদের না দেওয়ার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) পানছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, তাদের মরহুম পিতা হাফেজ আহাম্মদ সাহেবের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আইনগত অধিকার থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দুই বোন ও পাঁচ ভাই একই পিতার সন্তান। বর্তমানে সকল ভাই ইন্তেকাল করেছেন। ২০১১ সালে দুই বোনের প্রাপ্য মোট ১০.৫ শতক (০.১০৫ একর) প্রথম শ্রেণির জমি বণ্টনের সময় সকল ভাই অ-নাপত্তি দিলেও ছোট ভাই কুনা মিয়া এতে আপত্তি জানিয়ে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে নেন। পরবর্তীতে কুনা মিয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশ মোঃ আবুল কাশেম এবং আব্দুল কাদের জমিটি দখলে রেখে দেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জীবিত অবস্থায় তিন ভাই মোঃ আলী, কুনা মিয়া ও মমিন মিয়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জমি বণ্টনের আবেদন করলে ৩নং পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা তিনজন ইউপি সদস্যের সহায়তায় জমি বণ্টন করে দেন। তবে কুনা মিয়া সেই বণ্টন মানেননি। বাধ্য হয়ে দুই বোন খাগড়াছড়ি বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৬/২০১১)। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালের ১৯ মে আদালত তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন এবং আইনগতভাবে সম্পত্তির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই রায় অমান্য করে অভিযুক্তরা জমিটি অন্যত্র বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, আদালতের সুস্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও মোঃ আবুল কাশেম ও আব্দুল কাদের পুনরায় জমিটি দখল করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিক্রি করেছেন। তারা অতীতেও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানছড়ি উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন ও সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামানকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তবে সংগঠনটির সভাপতি জাকির হোসেন সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বলে স্বীকার করেন অভিযোগকারীরা। পরবর্তীতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ মিনহাজুর রহমানকেও জানানো হয়। এর পর থেকেই অভিযুক্তরা তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী দুই বোন বলেন, আমরা আমাদের বাবার রেখে যাওয়া ন্যায্য সম্পত্তি বুঝে পেতে চাই। আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।
অপরদিকে স্থানীয়রা জানান, বাবার সম্পদের দাবির মেয়েদেও পাপ্যতা রয়েছে এক্ষেত্রে তাদেও দাবিপূরণ করা যৌক্তিক। তাছাড়ও আদালতের আদেশ থাকা সত্তেও কিভাবে অমান্য করে তা অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে এটি অন্যায়।