শিরোনাম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রামগড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানরামগড় স্থলবন্দর অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলরাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আর নেইবান্দরবানের লামায় বজ্রপাতে শিশু সহ নিহত ২, আহতকাপ্তাইয়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাইঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাইকাপ্তাই শিল্প এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরিবান্দরবানের লামায় মৌচাক এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতমানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

বান্দরবানের থানচিতে তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন কৃষক ও উদ্যোক্তারা

১৫

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু নদের চরগুলোতে এখন চোখে পড়ছে বিস্তীর্ণ এলাকাজুরে চিনা বাদামের ক্ষেত। যে চরজুড়ে গত পাঁচ বছর আগে তামাক চাষের দখলে ছিল সেখানেই এখন চিনা বাদামের সবুজ রঙের ক্ষেত। দীর্ঘবছর ধরে তামাক চাষে নির্ভরশীল থাকলেও এবার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে অনেক কৃষক ও উদ্যোক্তা চাষি তামাক ছেড়ে বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা বাড়ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হয়েছে আর্থিক উন্নয়নের ভিন্ন খাত।

কৃষক ও উদ্যোক্তারা জানান, চিনা বাদাম চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং সময়ও লাগে কম। তামাক চাষে যেখানে বেশি শ্রম, রাসায়নিক ও ঝুঁকি সেখানেই বাদাম চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি। তবে শুধু শাক-সবজি ও বাদাম চাষের আবাদ বাড়ালেই হবে না, বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, থানচির সাঙ্গু নদীর চর ও সংলগ্ন অবস্থিত আবাদযোগ্য ৩.২৬ হেক্টর জমিতে ২৮০জন চাষি চিনাবাদাম চাষ করেছেন। গত পাঁচ বছরে তামাক চাষে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২০-২১ সালে তামাক এর নিট আবাদযোগ্য জমির ৮৫ শতাংশ দখল করেছিল। তবে ২০২৫-২৬ সালে এটি প্রায় ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

এদিকে সচেতনমহল বলছেন, চিনা বাদাম উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষীরা। তাদের সরকারি সহায়তা, বাজার সংযোগ এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হলে তামাক ছাড়ার এই ইতিবাচক উদ্যোগ টেকসই হবে এবং পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

স্থানীয় বাদাম চাষির মংহ্লাসিং মারমা, মোঃ জসিম ও মংশৈউ মারমা জানান, গতবছরে শুকনো বাদাম প্রতি মণের ৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছি। এবারে সাঙ্গু নদীর চরজুড়ে বাদাম চাষের ঝুঁকছে চাষিরা। বাদাম চাষ বেশি হওয়ায় স্থানীয় আড়তদাররা অগ্রীম টাকাও দিচ্ছে না। তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় বড় বাজারে কিংবা শহরে সরাসরি পণ্য নেওয়ার সুযোগও সীমিত। এতে করে কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, বছরের সিজন অনুযায়ী ব্যবসা চালানোর জন্য আগের মতো শহরে আড়তদার থেকে অগ্রীম ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমে বিলম্ব এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে দাম নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তবে কৃষক উদ্যোক্তাদেও ভালো উদ্যোগ হয়েছে যে তামাক ছেড়ে কৃষি জমিতে বাদাম চাষে এগিয়ে আসায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ ওয়ালিদ হোসেন বলেন, তামাকের বিকল্প হিসেবে সরিষা, চিনা বাদাম, বিভিন্নধরনের শাক-সবজি ও তরমুজের মতো সবুজ ফসলের চাষ করতে প্রান্তিক কৃষকদের উৎসাহিত করা হয়েছে। চাষিদের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে, তাদের কৃষি বিভাগ থেকে বীজ নির্বাচন, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন তামাক নির্ভরতা কমছে, বাড়ছে বাদাম উৎপাদন। ফলে কৃষকের লাভজনকভাবে আয়ও বাড়ছে।