কনকনে শীতে রাঙ্গামাটিতে গরম পোষাক ক্রয়-বিক্রয়ে যেন ধুম চলছে
॥ দেবদত্ত মুৎসুদ্দী (গোপাল) ॥
দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্রমেই বাড়ছে ঠান্ডা। কনকনে ঠান্ডায় যেন কাঁপছে সারা দেশের মানুষ। অধিকাংশ এলাকায় সূর্যের দেখা নেই কদিন থেকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি শীত অনুভব হচ্ছে রাঙ্গামাটি জেলাতেও। শহরের দোকানগুলোতে চলছে গরম কাপড় কেনার ধুম।
হাটবাজার, দোকানপাট, মানুষের কর্মচাঞ্চল্য ও কোলাহল সবকিছুতে শীতের হিমেল ঠান্ডা লেগে রয়েছে কিছুদিন ধরেই। সকাল-সন্ধ্যা মেঘলা আর কুয়াশায় চাদরে ঢাকা পড়ছে বাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকায়। চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে শীত বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমন অবস্থায় শীত নিবারণে রাঙ্গামাটি শহর জুড়ে চাহিদা বেড়েছে গরম কাপড়ের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মার্কেটে, শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতে বেচাকেনা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের শীতের কাপড়।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ) দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ি বাজার, রিজার্ভ বাজার বনরূপা, নিউমার্কেট, টিএনটি, কলেজ গেইট, দেবাশীষ নগর, ভেদভেদি সহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বনরূপা বাজারের, বিএম শপিং সেন্টার, মনে রেখ, রিজার্ভ বাজারের মসজিদ এর সামনে, মধুমিতা বডিং এর সামনে, মাতব্বর শপিং সেণ্টার সহ বিভিন্ন দোকানে, ফুটপাতে, টং দোকান সাজিয়ে শীতের কাপড়ের ব্যাপক সমাহার। ব্যবসায়ী ও দোকানিরা ক্রেতাদের চাহিদা আর রুচির কথা মাথায় রেখে পসরা সাজিয়েছে শীতের পোশাকের। এরমধ্যে স্থানীয় পাহাড়ি নারীদের হাতে বুনা চাদর, মাফলার রয়েছে, দেশি-বিদেশী জ্যাকেট, সোয়েটার, হুডি, ফুল সিøভ টি-শার্ট, ব্লেজার, সিøভলেস কোট, কটি, জিন্সের মোটা শার্ট-জ্যাকেট, ডেনিম শার্ট, হাফ কোট, উলের তৈরি শাল, খাদির শাল, কানটুপি, হাত ও পায়ের মোজা অন্যতম।
টিএনটি মার্কেটের ব্যবসায়ী খোকন বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ীই মৌসুমভিত্তিক কাপড়ের ব্যবসা করেন। সে অনুযায়ী এখন অধিকাংশ দোকানেই শীতের পোশাক। তবে এক্ষেত্রে আমরা স্কুল, কলেজের ছাত্র ছাত্রী, তরুণ-তরুণীদের পছন্দকে প্রাধান্য দেই। কারণ বয়স্ক মানুষ একটি শীতের কাপড়ের একাধিক বছর চালালেও তরুণ-তরুণীদের প্রতি বছর নতুন কাপড় কেনার প্রবণতা বেশি। সেজন্য আমরা তাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই শীতের পোশাক সংগ্রহ করে থাকি। এবছর বিক্রি খুবই ভালো হচ্ছে। শীত বাড়ার কারণে দোকানে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। সবমিলিয়ে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শীতের পোশাকের বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্টির কথাও জানান তিনি।
কেনাকাটা করতে আসা সিজি মা বলেন, আমার বাড়ি ভেদভেদির মোনঘর এলাকায়। সেখানে প্রচুর শীত পড়ছে। ছেলে, মেয়ে, বাবা-মায়ের জন্য শীতের পোশাক গত বছর কিনেছি সেগুলি এখনো আছে। তারপরও এখন আবার মোটা গরম কাপড়ের পোশাক, মাফলার এবং হাত পায়ের মোজা বেশি করে কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশিই। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে কেনাকাটা তো করতেই হচ্ছে।
আলী মিয়া নামের অপর ক্রেতা বলেন, শীত বেশি পড়ছে। সেজন্য অনেকটা হুমড়ি দিয়ে দোকানগুলো থেকে কেনাকাটা করছে। ক্রেতা যেহেতু বেশি তাই দোকানিরা দাম একটু বেশি চাইছে। তবে মার্কেটের দোকানের চাইতে ফুটপাতে সাশ্রয়ী মূল্যে শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। আর মার্কেটগুলোতে দাম অনেক বেশি। দেখেশুনে কেনাকাটা করতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এবছরে গরম যেমন বেশি ছিল ঠিক শীত ও পরবে অনেক বেশি। বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট ফুটপাতের বিক্রেতারাও। শিশুদের শীতের পোশাক, মেয়েদের উলের ওড়না, জ্যাকেট, চাদর থেকে শুরু করে ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন শীতের পোশাকের পসরা বনরূপা শেভরণ ডায়াগনষ্টিক এলাকার ফুটপাতজুড়ে। কিছুটা কম দামের কারণে সেসব দোকান ঘিরে ভিড় করছেন মানুষ। অনেক দোকানে আবার চাদর, হুডি, হাতাওয়ালা টিশার্ট তাল মিলিয়ে বিক্রেতার হাঁকডাক ‘বাইচ্ছা লন, দেইক্কা লন, এক দাম ছোটদের ১০০, বড় দের ৩০০ এভাবে ডেকে বিক্রি করছে।
ফুটপাতে বসে কাপড় বিক্রেতা দুলাল বলেন, বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। কমদামে ভালো কাপড় দিচ্ছি। আমাদের তো দোকান ভাড়া দিতে হয়না। কর্মচারীর বেতনও দিতে হয় না। সেজন্য অল্প লাভেই মানুষের কাছে বিক্রি করতে পারছি। আজকে ছুটির দিন হওয়ার কারণে সকাল থেকেই ক্রেতার সমাগম বেশি। সব মিলিয়ে শৈত্যপ্রবাহের কনকনে শীতে রাঙ্গামাটিতে গরম পোষাক ক্রয় বিক্রয়ে যেন ধুম চলছে আমাদের মতো সব দোকানে।