দেশে সংখ্যালঘুদের উপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন নিপীড়ণ চলছে
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
গেল এক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদজনগোষ্ঠীর উপর যেভাবে নির্যাতন নিপীড়ণ, হত্যা, ধর্ষণ এর মতো ঘটনায় যেভাবে মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে তাতে আমরা ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠীগুলো চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এসব ঘটনাগুলো ঘটে গেলেও বর্তমান সরকার এসব ঘটনার বিচারে ভালো কোন উদ্যোগ আমরা দেখিনা। ‘ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই’ এই সেøাগানে বুধবার (১০ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
বিকাল ৫ঘটিকায় শহরের কল্যানপুরস্থ বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম রাঙ্গামাটি অঞ্চল এর কার্যালয়ে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ, রাঙ্গামাটি এর সহ-সভাপতি শ্রী ইন্দ্র দত্ত তালুকদার। অতিথি ছিলেন, রাঙ্গামাটি টেকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ কিরণ বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক, ইন্টু মনি তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীরণ বড়–য়া, সহ-সভাপতি, স্বপন কুমার মল্লিক, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক মিলটন বড়–য়া, আদিবাসী ফোরাম, রাঙ্গামাটি এর আদিবাসী বিষয়ক সম্পাদক শ্রী শুক্রমনি চাকমা, সদস্য শ্যামল চাকমা, রতন কুমার চাকমা, সজিব চাকমা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণে তফশীল ঘোষনা করতে যাচ্ছে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার মসনদে বসার ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সুশাসন প্রতষ্ঠার কথা বললেও কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র করা হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন ধর্মীয় রাষ্ট্র করা হবে। অথচ তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন এটি বহুজাতিগোষ্ঠীর বাংলাদেশ। স্বাধীনতাযুদ্ধে বৃহৎ এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলো হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন ও মা বোনদের সম্ভ্রমহানির মাধ্যমে এ স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। তারা বলেন, আমরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব প্লাটফর্ম আছে। কোন কোন রাজনৈতিক দলের প্রতি আমাদের সমর্থন এবং আমরা সমর্থকও আছি কিন্তু তাই বলে এই নয় যে অসমর্থিত ইচ্ছেগুলো আমাদের উপর তারা চাপিয়ে দেবে।
বক্তারা আরো বলেন, দেশে বৈষম্য আছে আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ঐক্য হওয়া ছাড়া বিকল্প নাই। সমন্বয়ের অভাবে অধিকারের কাজগুলো নিয়ে এগুনো যাচ্ছে না। আমরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো মিলে একটা বৃক্ষ আর আমাদের ঢালপালাগুলো যে যেদিকেই যাকনা কেন অধিকার আদায়ে একাট্টা হতে হবে। দেশে সংখ্যালঘুদের উপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন নিপীড়ণ চলছেই। আমাদের সংগঠনগুলোকে আওয়ামীলীগ-বিএনপি সহ অন্য রাজনৈতিক দলের ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে বিভাজন করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে ঐক্যের জন্য এককাতারেই আসা প্রয়োজন, কেননা দেশে কোথাও আমরা নিরাপদ থাকতে পারছি না। প্রতিনিয়ত আমাদের মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। বিভক্ত থাকাতে রাজনৈতিকদলগুলোও সেভাবেই আমাদের ব্যবহার করছে। নির্যাতিত নিপীড়িত হতে চাই না। বহুজাতিগোষ্ঠীর জীবন ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন আমাদের বাংলাদেশকে ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র করতে হবে।