খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সভা
॥ দীঘিনালা উপজেলা প্রতিনিধি ॥
১৯৯১ সালে ওমেন গ্লোবাল লিডারশীপ ইনষ্টিটিউট এর উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানেও সারা বিশ্বে পরিচালিত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হল নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ সহ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজকে সংগঠিত করা। এ লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনব্যাপী সক্রিয় কার্যক্রম উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(২৬নভেম্বর) সকাল ১১টায় দীঘিনালা উপজেলা অডিটোরিয়াম সম্মেলেন কক্ষে লোকাল ভলান্টিয়ার মিডিয়েটরস ফোরাম (এলভিএমএফ) এবং যুব ফোরামের যৌথ আয়োজনে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয়ন এর অর্থায়নে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ইআরআরডি-সিএইচটি, ইউএনডিপি প্রচারে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনব্যাপী সক্রিয় কার্যক্রম উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এলভিএমএফ এর সভাপতি চন্দ্র রঞ্জন চাকমা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন, দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইনামুল হাছান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন দীঘিনালা থানা প্রতিনিধি পুলিশ পরিদর্শক মোঃ ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন ত্রিদীপ রায় পোমাং, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা, কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা সিএইচটি ইউএনডিপি প্রতিনিধি অংক্রুসা মারমা প্রমূখ।
আলোচনা সভায় সকল নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনের সক্রিয়তা কার্যক্রম একটি বৈশ্বিক প্রচারনা, যা প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর থকে শুরু করে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পালিত হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এর নেতৃত্বে ক্যাম্পেইন এই বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রতি বছরের মত সারা বিশ্বে হাজার হাজার সংস্থা ১৬ দিনের সক্রিয়তা কার্যক্রম প্রচারে অংশ নিচ্ছে। নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক এই প্রচারনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন প্রচারনামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং নারী মেয়ে শিশুদের প্রতি সহিংসতা নির্মূলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।
নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতা নির্মূল: ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য বিষয় গত তিন দশকে আইন সংস্কার, সেবা বিস্তার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অগ্রগতি সত্ত্বেও নারী ও মেয়ে শিশুর প্রতি সহিংসতা এখনও উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত। বিশ্বের প্রতি ৩ জন নারীর ১ জন তার জীবনে শারিরীক বা যৌন সহিংসতার শিকার হন। লিঙ্গবৈষম্য, ক্ষতিকর সামাজিক রীতি, আইনের দূর্বল প্রয়োগ ও সম্পদের অভাব এই পরিস্থিতিকে স্থায়ী করেছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক মহামারি, সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারী ও মেয়ে শিশুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সহিংসতার নতুন রূপ ডিজিটাল সহিংসতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নারী ও মেয়ে শিশুরা অনলাইনে অপমান, হয়রানী, ঘৃণামূলক ভাষা, হ্যাকিং বা ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিওর অপব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। আর ডিজিটাল জ্ঞানের অভাবে প্রান্তিক নারীরা আরও বেশি ঝুঁকিতে আছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা: নারীর অধিকার সুরক্ষায় নারী ও মেয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ নানা উদ্যোগ নওয়া হলেও সহিংসতা এখনো নীরব মহামারি রূপে বিরাজমান। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে প্রান্তিক অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল।