শিরোনাম
খেলাধুলা সামাজিক অবক্ষয় থেকে সমাজকে রক্ষা করে: বি. জেনারেল সোহেলমাটিরাঙ্গায় ক্ষতিকর পোকা শনাক্তে আলোক ফাঁদ স্থাপনজব্দ ড্রেজার মেশিন প্রশাসনের অফিস সহায়কের বাসায় কেন প্রশ্ন ব্যবসায়ীদেরহিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে ত্রিপুরা প্রতিনিধি নিয়োগের দাবিতে স্মারকলিপিরাঙ্গামাটিতে অজগর সাপ উদ্ধার, পরে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্তরোয়াংছড়িতে তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সরঞ্জাম হস্তান্তরএমএন লারমা স্বপ্ন দেখেছিলেন অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ নিমার্ণের, তা বাস্তবায়ন হোকগঠিত এসব কমিটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সহ সকল সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশাপার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতীয় কমিটিকে অভিনন্দন‘সাজু আপা’ নিজেই নির্যাতিত কিন্তু কোন নারী-শিশু নির্যাতন হতে দেখলেই ছুঁটে যান

বান্দরবানের থানচিতে ভিজিডি-ভিডব্লিউবি সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে ১ হাজার ২শত ২৪ জন দরিদ্র নারী তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। ভিজিডি ও ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী দশ মাস হয়ে গেলেও এখনো সঞ্চয়ের টাকা না দিয়ে নানা অজুহাতে ঘুরিয়ে দিচ্ছেন। এমতাবস্থায় দ্রুতভাবে তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

তারা জানান, ২০২৩-২৪ চক্রের দুই বছর ধরে প্রতি মাসে ২শত ২০ টাকা করে সঞ্চয় জমা নিলেও নির্ধারিত সময় শেষে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। থানচি সদর ও বলীপাড়া ইউনিয়নের কয়েকজন উপকারভোগীদের দেওয়া হলেও দুর্গম তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের কেউ এখনো পাননি।

সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে ২শত ২০ টাকা করে ২০২৩-২৪ চক্রে দুই বছরের সঞ্চয় জমা করেন ১হাজার ৬শত ৭৪জন উপকারভোগী নারীরা। চক্র মেয়াদ শেষে চলতি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত দেননি। বিশেষ করে রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের নারী উপকারভোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মাসে পর মাস পেরিয়ে দশ মাস হয়ে গেলো, ভুক্তভোগীদের নানা অজুহাতে ঘুড়িয়ে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহকারী (প্রয়াত) এমরান হোসেন জীবিত অবস্থায় উপকারভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন এবং পরে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর থেকে ফেরত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দরিদ্র নারীদের তাদের দ্রুত সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মার্মা বলেন, আমার ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের কিছু অংশের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে ৪ থেকে ৯নং ওয়ার্ডের নারীরা এখনো টাকা পাননি। থানচি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় ৬৯ হাজার টাকা এখনো বাকি রয়েছে, বাকিগুলো সব দেয়া হয়েছে। তবে দুর্গম তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের এপর্যন্ত কাউকে ফেরত দেওয়ার হয়নি বলে দাবির তাদের।

তিন্দু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সংয়োগ হয়নি। অন্তত্য নেটওয়ার্ক বিহীন দুর্গম এলাকায় রেমাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) সাথে যোগাযোগ করে তাকেও মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতনমহল ও এলাকাবাসীরা দরিদ্র নারীদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরকারিভাবে দ্রুত তদন্ত করে আত্মসাতের ঘটনার কিংবা এত দেরি কারণে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আয়েশা আক্তার বলেন, অফিস সহকারী হঠাৎ মারা যাওয়ার কারণে সঞ্চয় টাকা ফেরত কার্যক্রমে বিলম্ব হচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ মাসের কাজ শুরু করতে পারলে আগামী মাসে সবার সঞ্চয় টাকা ফেরত দিতে পারবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে ব্যবস্থা পদক্ষেপ গ্রহণে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।