শিরোনাম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রামগড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানরামগড় স্থলবন্দর অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলরাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আর নেইবান্দরবানের লামায় বজ্রপাতে শিশু সহ নিহত ২, আহতকাপ্তাইয়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাইঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাইকাপ্তাই শিল্প এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরিবান্দরবানের লামায় মৌচাক এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতমানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

চায়ের দোকানের আড্ডায় এখন একটাই প্রশ্ন, কে হাসবে শেষ হাসি

১৩

॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥
‎আসন্ন খাগড়াছড়ির ২৯৮ নং সংসদীয় আসনকে ঘিরে দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পাহাড়ের রাজনীতি। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আর সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্যদের মতোই মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াত। দুই দলের নেতাকর্মীরা সমান তালে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাহাড়ি জনপদের এই আসনটি সব সময়ই ছিল আলোচিত এবারও ব্যতিক্রম নয়।

‎নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে পানছড়ি উপজেলা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন জুড়ে চলছে এই কার্যক্রম। বিএনপির পক্ষে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ ওয়াদুদ ভূঁইয়া, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে দলের নেতৃত্বে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা। তারা ভোটারদের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের ডাক’ তুলে ধরে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। ওয়াদুদ ভূঁইয়ার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থান বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। পানছড়ি উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একযোগে প্রচারণা যেন নির্বাচনের আগাম বার্তা দিচ্ছে।

‎অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী খাগড়াছড়ি জেলা শাখাও পিছিয়ে নেই। তারা এবার এমপি পদে এডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরীকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। এয়াকুব আলী চৌধুরী একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ও ইসলামী রাজনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার পক্ষে পানছড়ি উপজেলার দলীয় সমর্থকরা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে একযোগে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতের প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান, নৈতিক নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক ন্যায়ের বার্তা।

‎পুরো উপজেলাজুড়ে এখন ভোটের গন্ধ। চা দোকান, হাটবাজার, অফিসপাড়া, এমনকি গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এখন প্রতিদিনের আলোচনায় তুলছেন—“কে জিতবে খাগড়াছড়ি আসনে?” স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পাহাড়ি ও বাঙালি ভোটারদের সমীকরণ এই আসনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই এখন সেই সমীকরণকে লক্ষ্য করে তাদের কৌশল সাজাচ্ছে।

‎স্থানীয় ভোটারদের কেউ কেউ মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াতের এই একযোগে প্রচারণা অন্যদের জন্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পাহাড়ে দলীয় অবস্থানের পাশাপাশি উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ভোটের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট এই আসনে আগামী নির্বাচন হবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং উত্তেজনাপূর্ণ।

‎নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বেড়ে চলেছে প্রচারণার গতি। কেউ পিছিয়ে থাকতে চাইছে না। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এখন মাঠে সক্রিয়। চায়ের দোকানের আড্ডায় এখন একটাই প্রশ্ন, কে হাসবে শেষ হাসি।