শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে মৎস্যখাতে কোটি টাকার ক্ষতি

১২

॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥‎
‎খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার কালানাল এলাকায় ভয়াবহ ভারীবর্ষণে এক মৎস্যচাষীর অর্ধকোটি টাকার মাছ ভেসে গিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা সাধারণ। উপজেলার বিশাল পুকুরজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করা এ চাষীর স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে যেন চুরমার হয়ে গেছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৎস্যচাষী আনোয়ার হোসেন উপজেলার কালানাল এলাকায় ৫ বছরের জন্য প্রায় ৮ একর ভূমির ওপর ১১টি পুকুর লিজ নেন। এর মধ্যে ৬টি পুকুরে প্রায় ১০ টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা মজুদ ছিল। এছাড়া বাকি ৪টি পুকুরে ৩৫ হাজার পাঙ্গাস ও প্রায় ১ লক্ষ মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষে দেওয়া ছিল। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষদিকে এসব মাছ বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল তার।

‎কিন্তু রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারী বর্ষণে ওই ১১টির মধ্যে ১০টি পুকুরের বাঁধ ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সব মাছ বেরিয়ে নদী-খাল-ডোবা ও আশেপাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে চাষী আনোয়ার হোসেন প্রায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ‎ক্ষতিগ্রস্ত চাষী আনোয়ার হোসেন জানান, বছরের কষ্ট এক ঝড়ে শেষ হয়ে গেল। আমার সব স্বপ্ন ভেসে গেছে। আমার আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

‎এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীও শোকাহত। তারা জানান, হঠাৎ বন্যার মতো ভারী বর্ষণে শুধু আনোয়ার হোসেনই নন, উপজেলার আরও অনেক মৎস্যচাষীর পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে সমগ্র উপজেলার মৎস্য খাত এক বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ল।

‎পানছড়ি উপজেলা মৎস্য অফিসার প্রিয় কান্তি চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তালিকাভুক্ত করছি। যেসব চাষী ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। তথ্যানুযায়ী চাষী আনোয়ারের ১১টি পুকুর সহ উপজেলার মোট ১৯টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে আনুমানিক ৭০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

‎এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বারবার মৎস্য খাত ক্ষতির মুখে পড়ছে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।