শিরোনাম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রামগড়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদানরামগড় স্থলবন্দর অবকাঠামো পরিদর্শনে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলরাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য প্রকৌশলী রুবায়েত আর নেইবান্দরবানের লামায় বজ্রপাতে শিশু সহ নিহত ২, আহতকাপ্তাইয়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণসংবিধানের মূলনীতি অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাইঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাইকাপ্তাই শিল্প এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক এ চুরিবান্দরবানের লামায় মৌচাক এর ৩২তম বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠিতমানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আসন সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

দীঘিনালায় ৫০শয্যা হাসপাতালের কাজ শেষ হয়নি ৫বছরেও

১০৬

॥ মোঃ সোহেল রানা দীঘিনালা ॥

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলায় ২০২২সালের জনশুমারী অনুয়ায়ী মোট জনসংখ্যা ১লক্ষ ১৫হাজার ৪শত ৩৬জন মানুষের একমা মত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাছাড়া পর্যটন এলাকা সাজেক ইউনিয়নের কোন ধরনে দূর্ঘনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা দিতে হয় দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলায় ৫০শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ ৫ বছরেও শেষ হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ ২বছরের হলেও একাধিক বার সময় বাড়িয়ে নিলেও এখন পর্যন্ত সমাপ্ত হয়নি দীঘিনালা উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, উপজেলার উন্নত স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ২০১৯-২০অর্থবছরে পূর্বের ১০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহন করে সরকার। প্রকল্পটির কাজ করছে হেল্থ ইঞ্জিনিয়ার ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন মেক কনস্ট্রাকশন। খাগড়াছড়ি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলার বৃহত্তর জনসংখ্যা বহুল উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজের ধীর গতিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে প্রচণ্ডশীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন রোগীর চাপ বাড়ায় শয্যা সংকটে। চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নির্মাণ কাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে একাধিকবার সময় বাড়িয়ে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। ২ বছরের কাজ ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ করতে পারেনি। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা এবং চিকিৎসা নিতে এসে দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে পুরনো জরাজীর্ণ টিন শেডের কুঁড়েঘরে বসে চিকিৎসা সেবাদিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের এবং পুরনো জরাজীর্ণ শয্যা গুলোতেই রোগী ভর্তি করানো হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে শীতের মধ্যে জরাজীর্ণ ঘরের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সেবা নিতে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই।

দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার বলেন, একাধিক বার সময় বাড়িয়ে নেওয়ার পরও শেষ করতে পারেনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ। শয্যা স্বল্প নিয়ে ভাঙ্গা টিনের ঘরে অতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম পোহাতে হচ্ছে। আগামী বর্ষাকালের আগে নতুন ভবনে চালু না হলে সমস্যা হতে পারে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবন কাজটি দ্রুত শেষ হলে মানসম্মত সেবা পাবে উপজেলার মানুষেরা।

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ কাশেম বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের সবচেয়ে অবদান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোকে ৫০শয্যায় উন্নত করায়। দীঘিনালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কাজ প্রায় শেষ এখন শুধু হস্তান্তর অপেক্ষায়। আগামী বর্ষাকালের আগে নতুন ভবনটি চালু করা দরকার।

অন্ত-বিভাগে ভর্তি রোগী আয়ুশ্রী চাকমা মা অভিতা চাকমা বলেন, আমার ১৭ মাসের মেয়েকে নিয়ে হাসপালে ভর্তি হয়েছি পুরাতন হাসপাতালের জানালা দরজা ভাংগা, টয়লেট অবস্থা বেশি খারাপ দূর্গন্ধ। নতুন হাসপাল ভবনটি চালু হলে খুব ভালো হতো। অন্তÑবিভাগের আরেক রোগি মুন্নি সিল বলেন, নতুন ভবনে জন্য ভাঙ্গাঘরে রোগির বেড মাত্র পাঁচটি মেঝেতে আর বারিন্দ্রায় বিছান করে দেয় গাদাগাদি করে থাকতে হয়। টিনে চাল জানালা দরজা নষ্ট হয়ে গেছে শীতে অনেক কষ্ট হয় আর বর্ষাকালে চাল দিয়ে পানি পরে। তাড়াতাড়ি নতুন হাসপাতালটি চালু করা দরকার।
এদিকে প্রকল্পটির তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী হাসান বলেন, নির্মাণাধীন ৫০শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রকল্প হলেও করোনাকালীন দীর্ঘ ছয় মাস কাজ বন্ধ থাকা হঠাৎ নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। নানা জটিলতায় নির্মাণ কাজ ধীরে হলেও, আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক মোঃ মেহেদী হাসান।