শিরোনাম
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দ্ররিদ্রদের সহায়তা প্রদানরাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যুপার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবিকার সুরক্ষায় নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীবাঘাইছড়িতে অবৈধভাবে মজুদ করা সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার সেগুন কাঠ জব্দবান্দরবনের থানচিতে হামের সঙ্গে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সীমান্তের মানুষওমাটিরাঙ্গায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ ও সার বিতরণখাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় পাহাড়ি লিচুর মৌ মৌ গন্ধে মুখর বাজার এলাকাচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে চুক্তি সম্পাদনকারী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রীরাঙ্গামাটিতে দীপন তালুকদার দীপুকে-ই চেয়ারম্যান হিসেবে চায় বিএনপি পরিবারের অনেকেখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

বাঁচতে চায় দুই পা হারানো সোহেল: সরকারের নিকট সাহায্য কামনা

৭৯

॥ মোঃ ইসমাইল, পানছড়ি ॥

সোহেল বাঁচতে চায়, বাঁচাতে চায় নিজের পরিবারকে। কিন্তু সাধ্য যে তাঁর ভরাডুবি। দুই-পা ছাড়া বাঁচাবেই বা কেমন করে!

আড়াই বছর আগের ঘটনা, গাছের আড়তে কাজ সেরে গাছ বোঝাইকৃত জীপে করে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পড়ে সোহেল চাকমা। ঠিক তখনি গাছে চাঁপা পড়ে সোহেলের দুটো পা। আত্মচিৎকারে পৌঁছায় চিকিৎসা কেন্দ্রে। হয়নি চিকিৎসা জেলা সদরেও। যেতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সেখানে প্রায় চারটি মাস চিকিৎসার পর ডাক্তার তাঁর দুটো পা কেটে ফেলে। অবশ্য চিকিৎসার পুরো ভার বহন করে তাঁর কোম্পানি। সোহেলের আর্থিক অবস্থাও বেশ নড়বড়ে। ছোট দুটো সন্তান আর স্বামী-স্ত্রী’র ছোট্ট একটি পরিবার তাঁর। পরিবারের অভাবের ভার পূরণ করে স্বচ্ছতায় ফিরতে ভাড়া বাসায় থেকে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের কাজ করতো। সোহেল চাকমার এমন করুণ দশাতে ছেড়ে চলে যায় স্ত্রী। তাঁর দুটো সন্তান নিয়েই পাঁড়ি জমায় বাবার বাড়ি দীঘিনালায়। আর তো ফিরে এলো না তাঁরা। তবে সোহেলের এমন পরিস্থিতিতে ছেড়ে যায়নি বাবা-মা। নিজ সন্তানকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসে সেবা যত্ন শুরু করেন। সেই থেকে এ পর্যন্তও সঙ্গে আছেন বাবা-মা।

বাবা-মায়ের পরিবারও অভাবের সংসার। তাঁরা এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তাই আগের মতো আর কর্ম করার শক্তিও নেই। এদিকে আবার সোহেলের ছোট দুটো ভাইও প্রতিবন্ধী। আর এই তিন প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে সরকারের দেয়া একটি ছোট্ট ঘরে বহু কষ্টে জীবন ধারন করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন বাবা-মা।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা চেঙ্গী ইউপির ২নং ওয়ার্ডের রত্নসেন পাড়ায় সোহেল চাকমার (২৮) বসবাস। তার পিতার নামঃ অনল চাকমা, মাতার নামঃ শিক্ষাপুদি চাকমা।

সোহেল চাকমা জানান, আমার এমন পরিস্থিতি দেখে আমার স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে শশুড় বাড়ি চলে গেছে। আমার যদি একটা নিজস্ব ঘর থাকতো আর সংসার চালানোর মতো কিছু থাকতো তবে আমার পরিবারকে আবারো ফিরে পেতাম।

সোহেলের বাবা অনল চাকমা জানান, কোনো রকমে দিন পার করছি, আমার তো অভাবের সংসার। সরকার যদি অন্তত একটা সরকারি ঘর দিতো তাহলে সে তাঁর ঘরে সুন্দরমতো বেঁচে থাকতে পারতো। এদিকে তাঁর কোনো প্রতিবন্ধী ভাতাও নেই। আবেদন করা হয়েছে। কোটা খালি হলে পেতে পারে।

ঐ এলাকার সাবেক মেম্বার সূপন চাকমা জানান, তাদের পরিবার অসহায় একটা পরিবার। তাদের ভাঙা ঘর দেখে একটি সরকারি ঘর দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তাদের পরিবারের অবস্থা আরো খারাপ। তাঁরা কেউই কর্ম করতে পারেনা। কারন তাঁরা প্রতিবন্ধী আর পিতাও বৃদ্ধ। ছোট ঘরে এতোজন থাকা যায়না। তাই সরকার যদি সোহেল চাকমাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয় আমরা এলাকাবাসী কৃতজ্ঞ থাকবো।