শিরোনাম
মানবিক মূল্যবোধের বিকাশেই একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে: মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীখাগড়াছড়ির পানছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু, বিজিবি’র সদস্য আহতবান্দরবানের লামায় ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার এলজিইডি’র সড়কের উন্নয়ন কাজ ব্যাপক অনিয়মে ?দুর্গম পাহাড়ে বঞ্চিত বহু মানুষের চিকিৎসা সেবায় মাটিরাঙ্গা সেনা জোনবাঘাইছড়িতে সেনা জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদানবান্দরবানের লামায় কৃষক পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগরাঙ্গামাটিতে দূর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্ত অনুরাগীদের অশ্রুনয়নেকাপ্তাই বাঁশকেন্দ্র জামে মসজিদটি পূর্ণ সংস্কার করে দেওয়া হোকখাগড়াছড়ির রামগড়ে পুজামন্ডপ পরিদর্শনে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপিদুর্গাপূজা উপলক্ষে রামগড়ে ৫০ অসহায় নারীকে শাড়ি প্রদান

নারীরা চিন্তা চেতনার দিক থেকে এখন কোনভাবেই পিছিয়ে নেই

স্বামীর সহযোগীতায় ছোটকালের স্বপ্ন তাঁত কেন্দ্রের বাস্তবায়ন করলো মিতা চাকমা

১৩৭

॥ মিল্টন চাকমা, মহালছড়ি ॥
ছোটকালের নিজের লালিত স্বপ্নকে অবশেষে স্বামীর সংসারে এসে স্বামীর সহযোগীতায় বাস্তবায়ন করেছি। অনেক প্রচেষ্টায় তাঁত কেন্দ্র করে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়-প্রদশর্নী প্রতিষ্টান উদ্বোধন করেছি। বর্তমানে ১৮টি তাঁত থাকলেও ১২টি তাঁত চালু রেখেছি। অর্থের অভাবে বাকি তাঁতগুলো চালু করতে পারছিন না। তবে শেষ বয়সে হলেও আমার লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়িতে নিজস্ব উদ্যেগে গড়া মিতা টেক্সটাইল হতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। এরই মধ্য দিয়ে শুরু হলো নারী উদ্যেক্তা মিতা চাকমার পথ চলা। গত শুক্রবার সকাল ৯ টায় মাইসছড়ি বাজারের পাশে নোয়াপাড়াতে ষ্টল বসিয়ে মিতা টেক্সটাইলে উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধন করেন মাইসছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সাজাই মারমা। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সংশ্লিষ্ট মৌজা প্রধান স্বদেশ প্রীতি চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গগণ। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক ক্রেতা ও এলাবাসীর উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

উদ্বোধনকালে ইউপি চেয়ারম্যান সাজাই মারমা নারী উদ্যেক্তা মিতা চাকমার উদ্যেগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ উদ্যেগের ফলে শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা বেকারত্ব দূর হবে তা নয়, এতে করে মহালছড়ি বাসী তথা খাগড়াছড়ি জেলাবাসী উপকৃত হবে। তিনি আরো বলেন, নারীরা এখন চিন্তা চেতনার দিক থেকে কোনভাবেই পিছিয়ে নেই। এভাবে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হওয়ার মতো যোগ্যতা তৈরি করা কম কথা নয়। বেকার না থেকে নারী পুরুষ সকলেই নিজ উদ্যেগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে আসা ননিকা চাকমা নামের এক ক্রেতা জানান, কাপড়ের দামও কম আর গুনগত মানও ভালো। এই এলাকায় এ ধরণের একটা উদ্যেগ নেয়ার জন্য মিতা চাকমা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। পিনোন, খাদির জন্য এখন থেকে রাঙ্গামাটি বা খাগড়াছড়ি সদরে যাওয়া লাগবে না। অল্প টাকায় এখান থেকেই কেনা যাবে।

মিতা টেক্সটাইলের স্বত্বাধিকারী মিতা চাকমা বলেন, ছোটকাল থেকেই তাঁত শিল্পের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যার কারণে উদ্যেগ নিতে পারিনি। সরকারি বা বেসরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে তাঁতের সংখ্যা বাড়িয়ে পিনন, খাদি ও গামছা ছাড়াও বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় তৈরি করা যেত। এতে করে এলাকার বেকারত্ব দূর হতো আর আর আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।