শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

বাবা-মেয়ের এসএসসি পাশে আনন্দিত

১১৮

॥ মোঃ ইসমাইল,পানছড়ি ॥

লেখাপড়ার কোন বয়স নেই। তারই প্রমানে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বাবা-মেয়ে এক সঙ্গে পাশ করে ব্যতিক্রমী সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৩৭বছর বয়স্ক মোঃ শাহজাহান মিয়া। তিনি খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ৫নং ইউপি-র জিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা।

মোঃ শাহজাহান মিয়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায়ধীন পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয় (৬৫৪) থেকে মাধ্যমিক পরিক্ষায় জিপিএ- ৩.০৯ পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর মেয়ে সুমাইয়া বিনতে শাহজাহান (শ্রাবন্তি)ও মাধ্যমিক পরিক্ষায় জিপিএ- ৪.৬১ পেয়েছেন। সে পানছড়ি-র উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এনিয়ে এলাকাজুড়ে খুশির আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। চায়ের দোকানে রসে-রসে চলছে বাবা-মেয়ের প্রশংসার আলাপন। কেউ কেউ বলছে এ-থেকে আমাদের সবারই শিক্ষা গ্রহন করা উচিত।

মোঃ শাহজাহান মিয়া জানান, আমি ২০০১ সালে এসএসসি পরিক্ষা দিই। এক বিষয়ে ফেল করার পর পড়ালেখা ছেড়ে দিই। তারপরই শুরু হয় কর্মজীবন। একটা সময়ের পর আমার মেয়ে যখন নবম শ্রেণিতে উঠে তখন আমি ফেলে রেখে আসা এসএসসি সম্পন্ন করতে আগ্রহী হই। আর এ বছর আমরা বাবা-মেয়ে একসাথে এসএসসি পরিক্ষা দিই। আলহামদুলিল্লাহ আমরা বাবা-মেয়ে একসাথেই এসএসসি পরিক্ষায় পাশ করি। আল্লাহ চাইলে সামনে একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি হবো।

প্রতিবেশী আয়কর আইনজীবী মোফাজ্জল হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, আমি ওনাকে এসএসসি পরিক্ষা সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তাব দিই। এবং পড়াশোনার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করি। ওনার এই ফলাফলে আমরা এলাকাবাসী সকলেই আনন্দিত। সেইসাথে একই বছর কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় অভিনন্দন জানাই বাবা ও মেয়েকে।

উল্টাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবুল বাবা-মেয়েকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, লেখাপড়ার কোন বয়স নেই তা প্রমাণ করেছে শাহজাহান মিয়া। আমি সকলকে বলবো বয়স বিবেচনা না করে শিক্ষায় শিক্ষিত হতে। এতে করে সকলেই সুন্দর সমাজ গঠনে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও আশা করছেন তিনি।