অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়
॥ মোঃ ইসমাইল হোসেন, মানিকছড়ি ॥
বিদায় বেলা নিজে কাঁদলেন, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদেরও কাঁদিয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায় নিলেন খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ যোগ্যাছোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক। যে বিদ্যাপীঠ ছিল অবহেলিত জনপদের শিক্ষার আলোছড়ানোর চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জকেই জিতে সসম্মানে বিদায় নিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ মেহেবুল কালাম আজাদ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ মেহেবুল কালাম আজাদ। একই সাথে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকেরই উপস্থিতিতেই।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশীষ কুমার দেব’র সঞ্চালনায় ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মান্নান সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তিনটহরী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সুদীপ কুমার নাথ, বড়ডলু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বশির আহম্মেদ, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল জামান, কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংশেপ্রু মারমা, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এর সভাপতি ও সাংবাদিক আব্দুল মান্নান, যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মোঃ জামাল উদ্দিন সরকার, খাগড়াছড়ি জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম রকি, যোগ্যাছোলা গ্রামের প্রধান ক্যজাই কার্বারী প্রমূখ।
সহকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ৩৩ বছর শিক্ষকতা শেষে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় নিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মোঃ মেহেবুল কালাম আজাদ। বিদ্যালয়ে তার শূণ্যতা নেমে এসেছে। তাকে যথাযথ সম্মান জানিয়ে সম্মাননা স্মারক, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তাঁকে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তার অবদানের কথা আজীবন মনে রাখবে। তিনি চলে গেলেও তার স্মৃতি ভোলার মত না।

বিদায় বেলা মেহেবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৯৯৩ সালের ২ জানুয়ারি যোগ্যাছোলা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করি। আজ কর্মজীবনের ৩৩ বৎসর পূর্ণ হয়েছে। এক সময়ে অবহেলিত এ জনপদে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা যোগ্যাছোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রমে আগামীতেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
সেখানকার সভ্যসমাজ বলছেন, বিগত ২৪এর আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থানের নি¤œ, মধ্য এবং উচ্চ বিদ্যাপীঠে যেভাবে শিক্ষক লাঞ্চিত হয়েছেন, চরম অপদস্থ হয়েছেন সেখানে পাহাড়ের এই অবহেলিত জনপদে শিক্ষায় মানুষ গড়ার কাজে জীবনের ৩৩টি বছর নিরলস পরিশ্রম করে ছেলে মেয়েদের শিক্ষত করেছেন মোঃ মেহেবুল কালাম আজাদ তাঁকে যেভাবে বিদায় দেওয়া হয়েছে তা গর্ভের বিষয়। অথচ আমাদের দেখতে হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানান ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষাগুরুদের অপমান, অপদস্থ এবং চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে যা জাতির জন্য লজ্ঝাস্কর। আজ পাহাড়ের অবহেলিত জনপদের শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীরাই দেখিছেন শিক্ষা গুরু তিনি যে আদর্শেরই হোক তিনি তাঁদেরই শিক্ষাগুরু যাঁকে তারা সস্মানে বিদায় জানিয়েছে, আশির্বাদ নিয়েছে ও কেঁদেছে। এটাই আমাদের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং সভ্যসমাজের কাজ হওয়া উচিৎ।