শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

মনি স্বপন-দীপন-ভুট্টো-মামুন সহ যোগ্যদের সম্মান চায় বিএনপির তৃনমূল নেতৃবৃন্দ

৩৫

॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র নের্তৃত্বের অনেকেই অপেক্ষার দিন গুনছেন। বিগত বছরগুলোতে যারা মামলা হামলার শিকার হয়েছেন, দলের কার্যালয় পাহাড়া দিয়েছেন এখন তাদেরকেই পাশ কাটিয়ে বিএনপি বিএনপি ভাবের উঁকি মারাদের দৌরাত্ম হতাশ করছে ত্যাগীদের। জেলা বিএনপির নেতৃত্বস্থানীয় অনেকেই বলছেন উঁকিমারাদের নয় ঝুঁকি নিয়ে যারা ১৭বছর ধরে দলের হাল ধরেছেন তাদেরকে দ্রুত মূল্যায়ন করা না হলে হতাশ নেতাকর্মীদের দ্বারা ক্ষোভের বহির্প্রকাশও ঘটে যেতে পারে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করলে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মাঝে সারা দেশের ন্যায় এখানেও আনন্দের প্রকাশ ঘটে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার বিএনপির নের্তৃত্বে ফ্যাসিবাদীদের বিতারনে সুযোগ পাবে জিম্মি থাকা সাধারণ মানুষ। তাই দলের তৃণমূলের উন্নয়নে ত্যাগী এবং যোগ্য নেতৃবৃন্দের উপযুক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব চায় দ্রুত। দলের মনোনীত প্রার্থী এবং মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের মতামত যেমন জানতে চায় তেমনি দ্রুত ব্যবস্থার আহ্বানও জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র ও মানুষের সার্বিক কল্যাণ, নির্বাচনী ইসতেহার বাস্তবায়ন এবং লক্ষ্যমাত্র অর্জনে ১৮০ দিনের কর্মসুচী ঘোষণা করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন হতাশাগ্রস্ত নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি এখন দলের কিছু ব্যক্তিও পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কান ভারী করে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ বেশকিছু নেতাকর্মীর।

এদিকে জেলা পরিষদ থেকে অন্তবর্তী পরিষদকে বিদায় না দিয়ে নির্বাচিত সরকারের মনোনীত পরিষদ দ্রুত গঠন না করায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিএনপি’র জেলা এবং তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট এবং লুটেরা নেতাদের অত্যাচারে রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘবছর বিতারিত এবং বঞ্চিত থাকার পর অনেক খড়কুটো পুড়িয়ে এখন আমাদের সময় এসেছে বঞ্চিত মানুষের ও নেতাকর্মীদের উন্নয়নে প্রশাসনিকভাবে দায়িত্ব আমাদের চাই। তাই তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর দায়িত্বে আমাদেরই তিন জেলার যোগ্য নেতাদের হাতে দায়িত্ব দিতে হবে।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে কথা দিয়ে ২০০১ সালে রাঙ্গামাটি আসনে বিজয় অর্জন করেন মনিস্বপন দেওয়ান। ফলশ্রুতিতে তিনি সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী পদে দায়ত্বশীলতার মাধ্যমেই সব দায়িত্ব পালন করেন। জেলা বিএনপি’র ইয়াবড় কার্যালয় তারই হাতে নির্মিত। পরিবহন খাতে জিম্মি রাঙ্গামাটিবাসীকে মুক্ত করেন তিনিই। তিনি পুরো সময়ের দায়িত্বে আস্থাভাজনও অর্জন করেন জেলা দলের সহ তিন জেলার কাছে নেতৃত্বে কর্তৃত্বেও। কিন্তু তৎসময়েও আওয়ামলীগের ফ্যাসিস্ট নেতাদের প্রতিহিংসার রোষানলে পড়েন মনিস্বপন দেওয়ান আর তাদের চক্রান্তের সাথে জেলা বিএনপির কিছু নেতা আর্থিক ও পড়ে লোভনীয় ব্যবসার ফান্দে পড়ে মনিস্বপনের বিরুদ্ধাচরণ করেন এবং দল থেকে তাঁকে সরাতে নানান ষড়যন্ত্র করেন খোদ দলের অনেকেই। এভাবেই জরুরী অবস্থার পরে ২০০৮সালে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করলে এবার চক্রান্তকারীরা পাকাপোক্তভাবে জেলা বিএনপি থেকে মনিস্বপন দেওয়ানকে দুরে সরিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিএনপির বিক্রিত নেতা ও দালাল নেতৃত্ব চক্র সফল হয়ে অনেকটা দলের নেতৃত্ব শুন্য করে ফেলে। জেলা বিএনপি’র তৃণমুলের নেতাকর্মীরাও মনিস্বপন দেওয়ানের অনুপস্থিতিতে কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেন সে সময়েও। কিন্তু ঐ দালাল চক্র যখন বুজতে পারে তখন বিএনপির নেতৃত্বে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। ক্ষতির স্বীকার হন সাধারণ জনগনও। মনিস্বপন দেওয়ান ভালোবেসে বিএনপিতে যোগদান করে বেগম খালেদা জিয়াকে কথা দিয়ে ছিলেন বলে নির্লজ্জভাবে আবারো দলে ফিরে আসেন কিন্তু তা কিছু সময় পরে।

এবার জেলা বিএনপির সিনিয়র জুনিয়র অনেক নেতাকর্মীর দাবি ত্যাগীদের মধ্যে অন্যতম হলো জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, তিনি খেয়ে না খেয়ে দলের সাথে এবং নের্তৃত্বে ছিলেন। দলের কিছু নেতার ষড়যন্ত্রের কারনে মনিস্বপন দেওয়ান দুরে সরে থাকলেও ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনিই দলের প্রত্যেকের সুখ-দুঃখে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। আওয়ামীলীগের ১৭ বছরের শাসনামলে দলের হাল ছেড়ে না দিয়ে বর্তমান সহসভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভুট্টো, এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পনির, সাধারণ সম্পাদক, এ্যাড. মামুনুর রশিদ মামুন, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ নুরুন্নবী, শ্রমিক দলের সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোঃ শহীদ, জেলা ছাত্র দলের সভাপতি মোঃ সাব্বির, কৃষক দলের সভাপতি অলোক প্রিয় চৌধুরী রিন্টু বড়ুয়া সহ আরো অনেকে রয়েছেন যারা ১/১১এর রোষানলে পরেন এবং মামলা হামলার স্বীকারও হয়েছিলেন। জেলা সহ তৃণমূলের নেতৃবৃন্দরাও চান প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের এবার ভালো মূল্যায়ন করা হোক।

তবে জেলা দলের অনেকেরই দাবি হলো, দীপন তালুকদার দীপু কে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মনিস্বপন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অথবা শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। এছাড়াও দলের প্রকৃত নেতৃত্বস্থানীয়দের ভালো মূল্যায়ন করতেই হবে। যারাই দলের জন্য বিপদের সময়ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন এখন সময় হয়েছে তাদের সম্মান জানানো। তাই ত্যাগীদের মূল্যায়নে তাদের আঁকুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে। দলের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক বিবেচনার প্রশাসনিক পদে ত্যাগী নেতাদের পদায়ন করতেই হবে, কেননা হতাশ হলে ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশও ঘটবে। দলের সার্বিক স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও দ্রুত ভালো ব্যবস্থা নিবেন এ প্রত্যাশাই তাদের।