রাঙ্গামাটিতে এনটিআরসিএ’র নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা যোগদান করেনি: জেলা শিক্ষা অফিসার
॥ নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা অফিসার সরিৎ কুমার চাকমা বলেছেন, রাঙ্গামাটিতে সর্বশেষ এনটিআরসিএ এর গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সকল শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব শিক্ষকরা নিয়োগ পেয়েছিলেন। রবিবার সকালে (১৫ মার্চ) জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি এর অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সনাক সভাপতি প্রফেসর বাঞ্ছিতা চাকমা এর সভাপতিত্বে টিআইবি’র এরিয়া কো-অর্ডিনেটর বেনজিন চাকমার সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সনাক সদস্য ও শিক্ষা উপ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক গৈরিকা চাকমা। তিনি চলামান প্যাক্টা প্রকল্প সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের জন্য দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবা প্রদান কার্যক্রমে শুদ্ধাচার বৃদ্ধি। প্রকল্পের বাস্তবায়নে খাতসমূহ যেমন-স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি ও পরিবেশ (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা) ইত্যাদি খাতের সাথে কাজ করছে বলে সভাকে অবহিত করেন।
ভৌগোলিক দুর্গমতা, স্বল্প বেতন, দুরত্ব ইত্যাদি কারনে তারা যোগদান করেননি বলে তিনি জানান। তিনি এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারলে শিক্ষক সংকট দূর হবে বলে মনে করেন। জেলা শিক্ষা অফিসার তাঁর আওতাধীন সমস্যা সমূহ সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
এছাড়াও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসিজি’র মাধ্যমে কমিউনিটি অ্যাকশন সভা ও কমিউনিটি মনিটরিং এর মাধ্যমে চিহ্নিত ইস্যুর আলোকে সংশ্লিষ্ট আলোচনা করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট, বিদ্যালয়ে ফার্স্ট এইড বাক্স, নারী বান্ধব কর্ণার, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসএসসি ফলাফলে পাশের হার বৃদ্ধিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অভিভাকদের সচেতনতা ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্লাস রুটিন এ ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়গুলোকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান সহ ক্লাস রুটিনের প্রথমার্ধে রাখা। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের হোম ভিজিট/ফোনে যোগাযোগ রাখা ও তা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করা, শিক্ষক সংকট দূরীকরণে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে পার্বত্য এলাকার শিক্ষক পদসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের জন্য বরাদ্দ রাখা, বিদ্যালয়ের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায়, অভিভাবক ছাত্র সু-সম্পর্ক বজায় রাখা, বিদ্যালয়ে সকল বিষয়ে পাঠদান, কাপ্তাই লেকের দুষণ রোধ, প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনার কুফল, ইভ টিজিং এবং বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক সেশন পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সনাক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন ও একতাবদ্ধ করার চেষ্টা করে। আমরা প্যাক্টা প্রকল্পের আওতায় অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি) এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছি। অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) এর কাজের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কমবে বলে আমরা আশা করি।