॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় চলতি মৌসুমে মরিচ চাষে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। ভালো ফলন এবং বাজারে সন্তোষজনক দামের কারণে চাষিদের মুখে এখন হাসি ফুটেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় মাটিরাঙ্গায় মরিচ চাষ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উপজেলার চড়পাড়া এলাকার কৃষক সোহাগ মিয়া এ বছর ৪০ শতক জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। তিনি জানান, শুরু থেকেই জমির পরিচর্যা ঠিকমতো করায় গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। বাজারে দামও ভালো থাকায় তিনি বেশ সন্তুষ্ট। সোহাগ মিয়া বলেন, এবার মরিচের ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে দামও মোটামুটি ভালো পাচ্ছি। এতে করে খরচ উঠিয়ে কিছু লাভের আশা করছি। একই এলাকার আরেক কৃষক সফিকুল ইসলামও ৪০ শতক জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন। তিনিও জানান, চলতি মৌসুমে মরিচের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি লাগছে। বাজারে দাম ভালো থাকলে আরও লাভ হবে।
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ ইউনুছ নুর বলেন, মাটিরাঙ্গায় মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে ভালো ফলন পেতে হলে জমির নিয়মিত পরিচর্যা, সময়মতো সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, মরিচ গাছে বিভিন্ন সময় পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ দেখা যায়। তাই কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করা হলে মরিচ চাষে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া মরিচ চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিচর্যা করলে মরিচ চাষে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব। তাই কৃষকদের আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি।