॥ নিজস্ব প্রতিবেদক, লামা ॥
পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার “ব্যক্তি নয় পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্রতা নিরসন ও খাদ্যের নিরাপত্তার মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড” কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মাচ ২০২৬ইং) সকাল ১০টায় বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১০৯৭টি পরিবারের উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এইসব কথা বলেন তিনি।
এ কার্যক্রমের সফল সূচনা হিসেবে পাইলটিং পর্যায়ে আজ ১০ মার্চ বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠী সহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৫টি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন পার্বত্য মন্ত্রী। এছাড়া পার্বত্য মন্ত্রী পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ইকো টূরিজম এবং পাহাড়ি জনপদে পর্যটক আকর্ষণে নানামূখি কার্যক্রম হাতে নেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, বান্দরবান জেলা প্রশাসক মিজ্ শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জাবেদ রেজা, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও সাবেক মেয়র আমির হোসেন সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি না থাকায় ওই পরিবারগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যাচাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডে কি কি সুবিধা পাবেন, নতুন এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলোঃ বর্তমানে প্রচলিত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য ভাতার তুলনায় এই কার্ডেও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ হবে। কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে। এতে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে আগামী ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প আকারে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বেকার বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো এই নিয়মিত ভাতার মাধ্যমে তাদের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা সহজেই পূরণ করতে পারবে।
বেলা ১২টায় পার্বত্য মন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে লামা উপজেলা-পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত উপজেলা পরিষদ মাঠে বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। জনসভায় বান্দরবান জেলা, লামা, আলীকদম উপজেলা সহ আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে।