শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

বান্দরবনের থানচিতে সাঙ্গু নদীর চর থেকে অবাধে পাথর লুট

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে নেটওয়ার্কবিহীন দুর্গম তিন্দু বাজার এলাকায় সাঙ্গ নদীর চরে থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে ও গভীর রাতের আঁধারে চলছে পাথর লুটপাট। প্রতিবাদ সত্ত্বেও থামছে না এই পরিবেশ ধ্বংসের কর্মকান্ড। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ব্যক্তিদেও সিন্ডিকেট শ্রমিকদের লাগিয়ে পাথরগুলো ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পরে রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানান, কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি বা নীতিমালা ছাড়াই নদীর চরজুড়ে চলছে পাথর ভাঙা ও উত্তোলন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে তীরবর্তী বসতি ও কৃষিজমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন্দু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, তিন্দু গ্রুপিং পাড়া বৌদ্ধ বিহারের ভবন ও সিঁড়ি নির্মাণ এবং তিন্দু বাজারে একটি সরকারি স্থাপনা নির্মাণকাজে অবৈধভাবে উত্তোলিত এসব পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সাঙ্গু নদীর তীরঘেঁষা তিন্দু বাজার সংলগ্নে চরজুড়ে পাথর ভাঙার স্তুপ পড়ে আছে। ছোট-বড় পাথর ভেঙে ছোট টুকরো ও কংক্রিটের মতো করে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

এদিকে সচেতনমহল বলছেন, পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকান্ডে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণ। বর্ষা মৌসুমে এর ভয়াবহতা রূপ নিতে পারে প্রাণঘাতী দুর্যোগে এমন আশঙ্কা করছেন তারা। পাথর ভাঙন ও উত্তোলন বন্ধ করে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা নুচমং মারমা, ক্রানিংঅং মারমা, অংক্যথোয়াই মারমাসহ অনেকেই জানান, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সাঙ্গু নদীর উজান থেকে অবৈধভাবে পাথর তুলে আসছে। ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস ও নদীর প্রবাহ হুমকিতে পড়ছে। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এই কর্মকান্ড পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

এসব অভিযোগের অস্বীকার করে পাথর উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শৈবাচিং মারমা বলেন, এখানে কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই। চলমান অবকাঠামো নির্মাণ ও জনসাধারণের সুবিধার্থে কিছু প্রকল্পের কাজে এসব পাথর সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, সাঙ্গু নদীর উজানে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিষয়ে কিছুই জানেন না, খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, বালু-পাথর উত্তোলনের কোনো অনুমোদন নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডেও বান্দরবন ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, সরকারি প্রকল্পে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর-বালু ব্যবহারের সুযোগ নেই। অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।