রাজস্থলীতে দারিদ্র্যের তথ্য প্রকাশে লুকোচুরি, ৩৭ শতাংশ থেকে কমে হলো ৯ শতাংশ
॥ মোঃ আজগর আলী খান, রাজস্থলী ॥
দারিদ্র্যের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও এবার গোপনীয়তা আর সংখ্যার কাটছাঁটের অভিযোগ উঠেছে। দেশের বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে কোনো সংবাদ সম্মেলন বা সাংবাদিকদের না জানিয়েই। শুধু একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে শেষ করা হয়েছে এত বড় তথ্যের উপস্থাপন। ওই প্রতিবেদনে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে আগের ৩৭ শতাংশ দারিদ্র্যকে নামিয়ে দেখানো হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, তা-ও আবার পুরোনো তথ্য ঘেঁটে।
২০২১ সালে একই বিষয়ের ওপর একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছিল। যেখানে বলা হয়েছিল, দেশের প্রায় ৬ কোটি ৫১ লাখ মানুষ অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু সেবছর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। পরে সেটিকেই কাটছাঁট করে সফলতার রূপ দিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশ করা হলো ২৪ শতাংশ দেখিয়ে।
উপজেলা পরিসংখ্যান বিভাগ রাজস্থলী সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন না করে, কেবল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে সন্দেহ আরও বেড়েছে যে, সরকার কি দারিদ্র্য কমিয়েছে, নাকি কেবল সংখ্যার ব্যবস্থাপনায় কম দেখিয়েছে। দারিদ্রতার হার কম দেখানোতে এবার রাজস্থলীতে বরাদ্ধ একে বারে নগন্য যা বলা বাহুল্য। বলতে গেলে গতবারের ছেয়ে এবার রাজস্থলীতে পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানদের ভিজিএফ চাউল বরাদ্ধ প্রদান করেছেন ১১ মেট্রিক টন। গতবার ছিলো ৩৭ মেট্রিকটন। হিসেবে ২৬ মেট্রিক টন চাউল কম বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই রিপোর্টে দারিদ্র্য নয়, সত্যটাই গায়েব। রাজস্থলী উপজেলা পরিসংখ্যান বিভাগের এ গাফিলতির কারণে আজ পার্বত্য রাজস্থলীবাসী সরকারি বরাদ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা পরিসংখ্যানের সাথে জোরালো ভাবে আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিপূর্বে করোনা মহামারির ধাক্কায় রাজস্থলীর মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে পুরোনো জরিপ দিয়ে বর্তমানের দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে ঢেকে রাখার চেষ্টা উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ও উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস তো খোলে না কাউকে পাওয়া যায় না।