শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

পাহাড়ে ‘লাল সোনা’র হাতছানি বিটরুট চাষে মাটিরাঙ্গায় ইছমাইলের বাজিমাত

॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মাস্টারপাড়া গ্রামের কৃষক ইছমাইল হোসেনের ফসলি জমিতে এখন সবুজের মাঝে গাঢ় লালের আভা। প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চমূল্যের সবজি বিটররুট চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। মাত্র ১০ শতক জমিতে শুরু করা এই ‘পরীক্ষামূলক’ চাষ এখন এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)-এর ‘স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট (এগ্রিকালচার)’ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ ও পুষ্টিকর সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইছমাইল তার জমিতে ‘লাল-২’ জাতের হাইব্রিড বিটরুটের এই প্রদর্শনী প্লটটি তৈরি করা হয়েছে।

ইছমাইল হোসেন জানান, আগে কখনো বিটরুট চাষের কথা ভাবিনি। আমাদের এলাকায় এই ফসল তেমন একটা প্রচলিতও নয়। তবে আইডিএফ-এর নিয়মিত উৎসাহ, আর্থিক সহায়তা ও কৃষি কর্মকর্তাদের বাস্তবভিত্তিক কারিগরি পরামর্শ আমাকে নতুন কিছু করার সাহস জুগিয়েছে। সেই সাহস নিয়েই আমি ১০ শতক জমিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বিটরুটের চারা রোপণ করেছি।

বর্তমানে গাছগুলোর বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যকর অবস্থা দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত ও আশাবাদী। মাঠে দাঁড়িয়ে গাছের সবুজ পাতা আর শক্ত গড়ন দেখে মনে হচ্ছে, এবার ভালো ফলন পাওয়া যাবে। যদি আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে, তাহলে বিটরুট চাষ আমার জন্য লাভজনক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে আরও জমিতে এই উচ্চমূল্যের সবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিটরুটকে বলা হয় সুপারফুড। এর গাঢ় লাল রঙ এবং পুষ্টিগুণের কারণে বাজারে এর চাহিদা তুঙ্গে। বিশেষ করে সালাদ এবং জুস হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ছে। ইছমাইলের চাষ করা ‘লাল-২’ জাতটি উচ্চ ফলনশীল এবং রোগবালাই প্রতিরোধে সক্ষম। ইছমাইল আশা করছেন, বর্তমান বাজার দর ঠিক থাকলে মাত্র অল্প সময়েই তিনি ৫০ হাজার টাকার মতো মুনাফা করতে পারবেন।

এই সফলতার পেছনে রয়েছে পিকেএসএফ-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা এবং আইডিএফ-এর নিবিড় তদারকি। ইছমাইলকে সার, উন্নতমানের বীজ ও শ্রমিক খরচ বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন আইডিএফ-এর সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন দাশ।

তিনি বলেন, “বিটরুট একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত ও উচ্চমূল্যের সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফাইবার ও বিভিন্ন ভিটামিন রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। সঠিক পরিচর্যা পেলে এবং উপযুক্ত পরিবেশে চাষ করা হলে অল্প সময়েই এই ফসল ভালো ফলন দেয়। বিটরুট চাষের জন্য সুনিষ্কাশিত, ঝুরঝুরে ও উর্বর মাটি অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ায় এ ফসল দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রোগবালাইও কম হয়। মাটিরাঙ্গা অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ বিটুরুট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হওয়ায় এখানে ফলন হয়েছে আশানুরূপ।

আমরা আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এর ফলে কৃষকরা নিরাপদ ও লাভজনকভাবে উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইছমাইলের এই সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন পাশের গ্রামের কৃষকরাও। চরপাড়ার কৃষক হানিফ মিয়া ইছমাইলকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ইতিমধ্যেই নিজের জমিতে বিটরুট চাষ শুরু করেছেন। পাহাড়ি অঞ্চলে অল্প জমিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য বিটরুট এখন একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে গণ্য হচ্ছে। পাহাড়ের কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিতে বিটরুটের মতো উচ্চমূল্যের সবজি চাষ খাগড়াছড়ির কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিটরুট একটি পুষ্টিকর ও উচ্চমূল্যের সবজি। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া বিটরুট চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ইছমাইলের এই উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন পথ দেখাবে। কৃষি বিভাগ থেকে আমরা এমন উদ্ভাবনী চাষে সব সময় উৎসাহ প্রদান করছি।