শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

বান্দরবনের থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঝুঁকিপূর্ণ কোয়ার্টারে স্বাস্থ্যকর্মীদের বসবাস

১৬

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন শুধু জনবল সংকটেই নয়, বহুপদ শূন্যে ৩১ শয্যা জনবলে চলছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্যসেবা। অবকাঠামোগত চরম অবহেলার এবং ঝুঁকিপূর্ণ হেড কোয়ার্টার ভবনে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছে নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ হেড কোয়াটারে বসবাসে অবকাঠামো নেই— সংস্কারও করা হয়নি। একটি বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও নেই কার্যকর কোনো উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন হেড কোয়ার্টার ভবনটি এখন কার্যত এক ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে থানচি সদরে সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যক্রম শুরু হলেও ১৯৯৫ সালে হেড কোয়াটার নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে ৩১ শয্যা ও ২০১৯ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল ও আবাসন সুবিধা বাড়ানো হয়নি। ফলে পুরোনো ও জরাজীর্ণ হেড কোয়াটার ভবনেই বাড়তি চাপ বহন করতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, থানচি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হেড কোয়ার্টারে ৭–৮টি ছোট-বড় ভবনের অধিকাংশই জরাজীর্ণ। কোথাও দেয়ালে বড় বড় ফাটল, কোথাও নিচতলায় ভাঙন। দরজা-জানালা নষ্ট, বৈদ্যুতিক তার ঝুলে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে। শৌচাগারগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারের অযোগ্য।

এদিকে চিকিৎসক ও নার্সরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ হেড কোয়াটারে বসবাস করতে অন্তত্য কষ্টসাধ্য। সম্প্রতি নতুন করে ২০ জন নার্স যোগদান করলেও তাঁদের জন্য নেই কোনো নিরাপদ আবাসন। বাধ্য হয়ে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দাবির তাদের।

অন্যদিকে সিনিয়র স্টাফ নার্স মো: রাতুল হাসানসহ একাধিক নার্স বলেন, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় থানচি ভূমিকম্প ও দুর্যোগপ্রবণ। কোয়ার্টারে ভবনের সক্ষমতা প্রায় শেষ। ভারী বৃষ্টি কিংবা ভূমিকম্প হলে ভবন ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। কিছুদিন আগেই মৃদু ভূমিকম্প হলে আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায় ভবনগুলো। কিন্তু উপজেলা সদরে বিকল্প থাকার কোনো ব্যবস্থাও নেই, বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হেড কোয়াটারে থাকতে হচ্ছে।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, নার্স সংকট কিছুটা কাটলেও চিকিৎসক সংকট এখনো তীব্র। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিক পুরোনো ভবন রয়েছে, যেগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হেড কোয়াটারে ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।