মুলধারার সাংবাদিক বা স্রোতের সাংবাদিক বলা যাবে না: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান
॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেছেন, বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকা বের হয় ১৩শতের অধিক। সনদে নয়, মনের মানসিকতায় শিক্ষিত হতে হবে। মুলধারার সাংবাদিক বা স্রোতের সাংবাদিক বলা যাবে না। বৃহস্পতিবার (২৯জানুয়ারি) রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা এবং বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন বিষয়ক কর্মশালায় বিচারপতি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা এবং বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন বিষয়ক কর্মশালায়, বিশেষ অতিথি ছিলেন, মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম, পুলিশ সুপার, রাঙ্গামাটি, মোঃ আলমগীর হোসেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এতে রিসোর্স পার্সন ছিলেন, আব্দুস সবুর, সচিব (উপসচিব) বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাহুল বণিক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা, রাঙ্গামাটি।
প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান আরো বলেছেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস আইন এখন নাই। আইন প্রনয়ণ করতে হলে সংসদের মাধ্যমে করতে হবে। সাংবাদিকদের ফাইন বা জরিমানা করা বা দেওয়ার জন্য প্রেস কাউন্সিল নয়। তিনি বলেছেন, আদালতের মূল ফটকে বা আঙ্গিনায় বিচার সংশ্লিষ্ট সংবাদের কোন সাক্ষাতকার দেওয়া-নেওয়াও যাবে না। এটির জন্য আদালতের আলাদা কক্ষে যেতে হবে। রাজনৈতিক এর সাথে সাংবাদিকতা সম্পর্কের বিষয়ে বিচারপতি বলেছেন, সাংবাদিকতার সাথে রাজনীতিকে যুক্ত করলে হবে না।
চেয়ারম্যান আরো বলেছেন, বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার বের হয় ১৩শতের অধিক। সনদে নয় মনের মানসিকতায় শিক্ষিত হতে হবে। মুলধারার সাংবাদিক বা স্রোতের সাংবাদিক বলা যাবে না। এখন সৎ পরামর্শ দেওয়ার মানুষের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ঢাকায় ব্যাটারি চালিত রিক্সা আছে ২০, লাখ ভাবা যায়। এমন অবস্থা হয়েছে মৃত ব্যক্তিকে কবর দিতে গেলেও পুলিশের প্রয়োজন হয়। তিনি জেলা প্রশাসন লিখার বিষয়টি নিয়ে বলেন, এটি জেলা প্রশাসন নয় লিখতে হবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর কার্যালয়।
বিশেষ অতিথি মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পুলিশ সুপার, বলেছেন, কোন বিষয় বা ঘটনা জানতে পারি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই। এখন আরো দ্রুত তথ্য পেয়ে যাই সামাজিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমে। তবে সংঘঠিত ঘটনার সংবাদ বস্তুনিষ্ট হওয়াও দরকার। এখন অনেকে অনলাইন বা নিজস্ব কনট্যান্ট থেকে তথ্য প্রচার বা সাংবাদিকতা করছে তাদের বিষয়ে জানাও দরকার। আগামী নির্বাচনে জনসাধারনের নিরাপত্তায় পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে বলে জানান। এছাড়াও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।
রিসোর্স পার্সন ছিলেন, আব্দুস সবুর, বলেছেন, সংবাদে রং দেওয়া যাবে না, অর্থাৎ সংবাদে রুচিহীন ভাষা বা তথ্য উপস্থাপন করা যাবে না। প্রশাসনিক কাজে বা সংবাদ সংগ্রহে গেলে আগে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করবেন। এটিও মনে রাখতে হবে সংবাদে কখনোই নিজের মতামত দেওয়া যাবে না। দূর্ঘটনার শিকার নারীর ছবি প্রকাশেও খেয়াল রাখতে হবে।
এর আগে সুভেচ্ছা বক্তব্যে জেলা তথ্য কর্মকর্তা রাহুল বণিক বলেছেন, আগামী নির্বাচন এবং গণভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগীতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র পরিচালনার চতুর্থ একটি অংশ। সাংবাদিকদের সহযোগীতা আমাদের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার পঞ্চাশোর্ধ স্থানীয় সংবাদিক অংশ গ্রহন করেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও এবং পরে সাংবাদিকদের মাঝে সনদ প্রদান করেন প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান।