॥ নিজস্ব প্রতবেদক ॥
বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল-হাসান বলেছেন, পর্যটন উন্নয়ন কমিটি জেলার পর্যটন উন্নয়নে সার্বিক কাজ করার এক্তিয়ার আছে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পর্যটন সমৃদ্ধ জেলার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা অন্যতম। বুধবার (২১জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষে (এনেক্স ভবন) ILO-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন Promoting Gender Responsive Enterprise Development and TVET Systems (ProGRESS) Project- এর আওতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে রাঙ্গামাটি জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির কার্যক্রম জোরদারকরণ বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আইএলও এর কনসালট্যান্ট জাবেদ আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সিভিল সার্জন ডা: নূয়েন খীসা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এর প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বিসিক, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সষ্টিটিউট, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি, হোটেল মালিক সমিতি, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, নারী সংগঠন প্রতিনিধি, পর্যটন খাতের যুব উদ্যোক্তা এবং রাঙ্গামাটি জেলার ৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড, ঢাকা এবং আইএলও প্রকল্পের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, তিন পার্বত্য জেলার জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটিকে অধিকতর সক্রিয়করণ ও জেলা পর্যটন উন্নয়নে কমিটির কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতকরণে উদ্যোগের অংশ হিসাবে এই সভার আয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই কমিটি নিয়মিতভাবে সভা আয়োজনের মাধ্যমে জেলার পর্যটন উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, রাঙ্গামাটি জেলাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ জেলায় রূপান্তরিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। জেলা পরিষদের কাছে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যটন হস্তান্তরিত হয়নি। পর্যটন খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয় কিন্তু ম্যানেজমেন্ট, স্টাফ মেইনটেনেন্স এসব কিছূ জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করে না। স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে রাঙ্গামাটি জেলার পর্যটন উন্নয়নের কথা চিন্তা করতে হবে। কেবলমাত্র ব্যবসার কথা না ভেবে কমিউনিটির লোকজনের কথা ভাবাও দরকার। পর্যটকরা এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবন সংষ্কৃতি দেখার জন্য আসে। আমরা পর্যটকদের সেটা দেখার পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারলে পর্যটনের বহুমাত্রিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিষদ শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য ট্যুর গাইডের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বর্তমানে কাপ্তাই লেক ঘিরে ইঞ্জিন বোট, হাউজবোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব বোট, হাউজবোট, ভাড়া তালিকা, লেকের সৌর্ন্দয রক্ষা, জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে নিয়ম-শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। আইএলও প্রগ্রেস প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে পর্যটন নিয়ে কাজ করছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে লোকাল কমিউনিটির লোকজনকে যুক্ত করা হচ্ছে। লোকাল কমিউনিটির সহযোগিতা থাকলে পর্যটন সেক্টরে উন্নয়ন সম্ভব।