মাটিরাঙ্গায় বৃত্তি পরীক্ষায় ফিরছে অষ্টম ও পঞ্চম সমমানের পরীক্ষার্থীরা
॥ মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা ॥
দীর্ঘ ১৬ বছর পর খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় আবারও অষ্টম ও পঞ্চম সমমানের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) নির্ধারিত দিনে উপজেলার দুইটি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার জন্য দুটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। মাটিরাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রটিতে ১১২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এখানে জুনিয়র বৃত্তি ও এবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে মাটিরাঙ্গা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে ২৩২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এই কেন্দ্রে জুনিয়র বৃত্তি ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, ২০০৮ সালে শেষবার পঞ্চম শ্রেণিতে স্বতন্ত্র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে পিইসি চালুর মাধ্যমে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালে ২৮ ডিসেম্বর (আজ) প্রায় ১৬১৭ বছর পর পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষাও পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীরা নতুন করে স্বীকৃতি ও প্রণোদনা পাবে, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে পরীক্ষার দিন শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ শরিফুল ইসলাম বিদ্যুত বলেন, বৃত্তি পরিক্ষা উপলক্ষে পরিক্ষার সেন্টার সমুহে পরীক্ষার প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আমরা আশা করি শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান জানান, বৃত্তি পরিক্ষার সেন্টারগুলোতে সকল প্রার্থীর জন্য আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র নিরাপত্তা সহ পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও প্রশাসনিক সহায়তা থাকবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে সর্বশেষ বৃত্তি পরীক্ষা নেয় সরকার। পরে চালু হয় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা, যা সমালোচনার মুখে ২০২৩ সালে বাতিল করে বার্ষিক পরীক্ষায় রূপ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালেও জেএসসি-জেডিসি ও বৃত্তি পরীক্ষা হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবার অষ্টম শ্রেণিতে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চালু হচ্ছে।