শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

বান্দরবানের থানচিতে বিরল রোগে আক্রান্ত হাইমংসিং এর চিকিৎসা বন্ধ

॥ চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি ॥
বান্দরবানের থানচিতে বিরল রোগে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী শিশু হাইমংসিং মারমা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হলেও কাঙ্খিত সুফল মেলেনি। চিকিৎসকেরা বিদেশে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও চরম অর্থসংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। মানবিক সহায়তা পেলে শিশুটি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে বলে আশাবাদী পরিবার ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, হাইমংসিং থানচি উপজেলা সদরে আপ্রুমং পাড়ার বাসিন্দা হ্লামংচিং মারমার একমাত্র ছেলে সন্তান। বাড়ির পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করলেও বর্তমানে শারীরিক জটিলতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটি জন্মগতভাবে শরীরের চামড়ায় কালো দাগ নিয়ে জন্ম নেয়। জন্মের প্রায় দুই বছর পর তার পিঠে তৈলাক্ত মাংসের মতো ছোট ছোট জমাট হয়। শুরুতে তেমন সমস্যা না হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে নয় বছর বয়সের পর এসব জমাট দ্রুত বড় হতে থাকে। বর্তমানে তা বড় আকার ধারণ করে তার মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যায়। ফলে হাঁটাচলা, খেলাধুলা এমনকি শরীর বহন করাও তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে শিশুটির বাবা হ্লামংচিং মারমা বলেন, তার ছেলে প্রতিদিন ব্যথায় কাতরায়। চিকিৎসার জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু টাকার অভাবে কিছুই করতে পারছি না। তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, এনজিও, মানবিক সংস্থা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে সন্তানের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন। শিশুটির মা নুমেসিং কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে চাই। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় চিকিৎসা করাতে পারছি না।

অন্যদিকে পাড়াপ্রধান উহ্লাঅং মারমা জানান, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বিরল রোগ হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে না। চিকিৎসকেরা এ রোগকে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি বলে উল্লেখ করেছেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, হাইমংসিং মারমার বিরল রোগক্রান্ত, দেশের চিকিৎসার হলেও সুফল মিলছে না। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রামের চিকিৎসার করেছিলাম। কোনো হৃদয়বান সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে চিকিৎসার করাতে পারলে শিশুটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে পাবেন।