চুক্তি পাহাড়ি বাঙালি সকলের তাই চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কাছে রোডম্যাপ চাই
॥ মিলটন বড়ুয়া ॥
বহুত্ববাদকে যারা স্বীকার করতে পারবে তারাই বাংলাদেশের সুন্দর শাসন ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত রাখতে পারবে। ১৯৭২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগুলোর অধিকার এর বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে দাবি করা হলেও তিনি এড়িয়ে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও পার্বত্য চুক্তির বিরোধীতা করে ছিলেন। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়েছে কিন্তু ২৮ বছর পার হতে চললো সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের কোন উদোগ দেখিনা। মঙ্গলবার (২ডিসেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৮ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আঞ্চলিক পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজি, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক নের্তৃবৃন্দরা এসব কথা বলেন।
সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকায় পরিষদ প্রাঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, আঞ্চলিক পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শ্রীমতি সুবর্ণা চাকমা, অতিথি ছিলেন, প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সাবেক উপসচিব, অ্যাড. চঞ্চু চাকমা, মোঃ নুরুল আলম, সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, শ্রীমতি নিরূপা দেওয়ান, মানবাধিকারকর্মী, নাইউপ্রু মারমা, সদস্য, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ, শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, সাবেক মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্চলিক পরিষদ। বক্তব্য রাখেন, সমীর কান্তি দে, সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি), থোয়াই অং মার্মা, সাঃ সম্পাদক, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক, অ্যাড জুয়েল দেওয়া, প্রভাষক আনন্দ জ্যোতি চাকমা, সাবেক ছাত্র নেতা তনয় দেওয়ান ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ফদাংতাং রাংলাই, সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের ২ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসনিা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরীত হয় এবং ৭২টি ধারার মধ্যে ২৫টি বাস্তবায়ন হলেও বাকীগুলোর এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান ভু-রাজনীতির যে পরিস্থিতি তাতে বাংলাদেশের অবস্থা কি হতে যাচ্ছে সেটাও এখন ভাবাচ্ছে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যারা কথা বলেন তারা, নাকি যারা বিরোধীতা করেন তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বাঙ্গালি ছাড়া যেমন পাহাড়ি নয়, তেমনি পাহাড়ি ছাড়া বাঙ্গালিও নয়। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সবারই সম্মিলিত ঐক্য দরকার। পার্বত্য চুক্তির দিন পুলকিত হয়েছিলাম, কিন্তু এখন আশান্তি আর অশান্তি, অভাব অনটনে যেন আমাদের পিছুই ছাড়ছেনা।
বক্তারা আরো বলেন, দক্ষিণপন্থীরা পার্বত্য চুক্তির বিরোধীতা করেন। ভুমি সমস্যার সমাধান না হলে শান্তি আসবে না। তাই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের কাছে রোডম্যাপ চাই। পার্বত্য চট্টগ্রামের যে পরিস্থিতি তাতে অনেকেই গণতন্ত্রকে ভুলে গিয়ে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। কারো হুমকীধামকিতে চুক্তি বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত মনে করার কোন সুযোগ নেই। পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী জেলা পরিষদের আইন নিয়ে অনেকের ধারনাই নাই। পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে বিরোধীতা করা হয়েছে তারাও জ্ঞাত নয়। অথচ অপরিচিতজনরা নানাভাবে বাঁধার সৃষ্টি সহ শিক্ষক নিয়োগ বিরোধীতা করে সাম্প্রদায়িকতার রূপ দিতে ছোট ঘটনাকেও বড় করার চেষ্টা হচ্ছে। এখানে বহিরাগতরা অশান্তি করে আর স্থানীয়রা চেয়ে চেয়ে থাকে।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন এবং শান্তির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আলোচনার পরামর্শ রাখা হয়েছে। প্রশ্ন করা হযেছে পাহাড়ীদের মধ্যে যারা বড় বড় পদে অধিষ্ট আছেন তাঁরা অধিকার প্রতিষ্ঠায় কতটুকুইবা কাজ করেছেন। আমাদের পাশের দেশগুলোতে বারুদের গন্ধ ছড়াচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বারুদের গন্ধ আনার চেষ্টা করবেন না। আমরা শান্তি চাই। মানুষের জীবন যৌবনের ত্যাগের বিনিময়ে চুক্তি হয়েছে, আমরা তাদের স্মরণ করি যারা অনেক নির্যাতন নিপীড়ণ সহ্য করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগীতা পাচ্ছি না। জনগনের কাছেও আমাদের জবাবাদিহি করা দরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা না হলে জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচন করা যাচ্ছে না। অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের লক্ষ্য থাকতে হবে চুক্তি বাস্তবায়ন করা। কেননা এই চুক্তি পাহাড়ি বাঙালি সকলের তাই চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের কাছে রোডম্যাপ চাই।