খাগড়াছড়ির সদরস্থ জেরক ও হেমন ত্রিপুরা পাড়ার কাঠের সেতুটি যেকোন সময় ভেঙ্গে যাবে
॥ দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি ॥
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের জেরক ও হেডম্যান ত্রিপুরা পাড়ার বহু পরিবারের হাজারো মানুষ মানুষ শহরের সাথে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার একমাত্র কাঠের সেতুটি যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাঁদের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পাকা ফুটওভার ব্রীজ যা দিয়ে নির্ভয়ে যে কোন সময় চলাফেরা করতে পারেন। কিন্তু প্রশাসনের উন্নয়ন কোন সংস্থাই এদের চাহিদার সেরকম মূল্যায়ন করেনি। তাই শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে বসবাস করেও তাঁরা যেন উন্নয়ন বঞ্চিত বলে জানিয়েছেন দুই পাড়ার মানুষ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলা থেকে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা সড়কের সাত মাইল নামক স্থান হয়ে গোলাবাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জেরক পাড়া ও হেমন পাড়া। যেখানে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষ বসবাস করছে একদিকে ঝুঁকি অন্যদিকে ভয়ও থাকে কেননা সেখানকার মানুষের যোগাযোগের একটি মাত্র কাঠের সেতু যেটির কোন নিশ্চয়তা নেই। অথচ সদরের মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দুই গ্রামে যেন রয়েগেছে দুর্গমতার ছোঁয়া অথচ দুই গ্রামের মানুষের মাঝে উন্নয়নের সেরকম ছোঁয়াই লাগেনি কিন্তু শহরবাসন্দিা হিসেবে বসবাস করচেন এবং প্রতিদিনের জীবনযাপন এগিয়ে নেয়ার সব ধরনের সংগ্রামও চালাচ্ছেন। লক্ষ্য করা যায়, জেরক পাড়া ও হেমন পাড়ায় যেতে খাগড়াছড়ি দীঘিনালা সড়ক ধরে ৭ মাইল পর্যন্ত যেকোনো গাড়ি চললেও এরপর শুরু হয় ধকল। প্রায় ১০ মিনিট হাঁটা, তারপর একশ ফুট উঁচু খাড়া পাহাড় বেয়ে আবার নামা, এরপর ত্রিমুখী ছড়া, যেটি বর্ষায় রূপ নেয় মৃত্যুফাঁদে। তারপর আবার খাড়া পাহাড়ে উঠা এ যেন কষ্টের নেই শেষ। যারা সুস্থ এবং সবল তাদের জন্য সহজ হলের অসুস্থ এবং বয়োবৃদ্ধদের যেন ছেড়ে দে মা কেদেঁ বাঁচি অবস্থা। আবার এই বিপদ পেরিয়েই প্রতিদিন স্কুলে যায় জেরক ও হেমন পাড়ার শিক্ষার্থীরা। তার মধ্যে নতুন মানুষ হলে গ্রামে পৌঁছতে সময় লাগে ৪৫ ঘণ্টা সেই সাত মাইল নামক স্থান থেকেই। ঠিক এভাবেই দিন মাস বছর পার হতেই চলেছে কিন্তু দুই গ্রামের মানুষের ভাগ্যে এখনো জোটেনি একটি ফুটওভার ব্রীজ।

সেখানের রথিচন্দ্র পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষক ধনীময় ত্রিপুরা সড়ক ও নিরাপদ পানি এই দুটো সমস্যাই সবচেয়ে বড়। সমাধান না হলে শিক্ষা সহ সার্বিক উন্নয়নে ধীর গতিই চলবে। বর্ষায় কঠিন সময় পার করেত হয় গ্রামবাসিদের তারই বিবেচনায় কয়েক বছর আগে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে একটি কাঠের ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। কিন্ত্র এটিও এখন অনেকটা যায় যায় অবস্থা।
স্থানীয় কার্বারী খোকন ও শিক্ষিকা অঞ্জলি ত্রিপুরা বলেন, জেলা পরিষদ যে ঠুকু করেছে তাতে মানুষ কয়েক বছর মোটামুটিভাবে হেঁটে যোগাযোগ করতে পেরেছে। কিন্তু এটির স্থায়ী সমাধান না হওয়াতে দিন দিন যেন বিপদ সামনের দিকেই এগিয়ে আসছে। কেননা কাঠের এ ব্রীজ অস্থায়ী যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে। তাই আমাদের দরকার একটি স্থায়ী ব্রীজ। আগামী বর্ষার আগেই ফুটওভার ব্রীজটি করতে পারলে কাজের সময় যেমন পাওয়া যাবে তেমনি বিপদ আসার আগেই মানুষ যোগাযোগের নিরাপদ সমাধানও পাবেন।
স্থানীয় জনসাধারণ জানিয়েছেন, বর্ষার পানির স্রোতে সেতুটির যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে যে বাজারের দিনেও বহুকষ্টের মধ্যে কাঠের এই সেতু দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পাহাড়ি ফলমুল, কলা বা জুমের ফসল বাজারে আনতে খরচ গুনতে হচ্ছে বেশি, খরচ বাঁচাতে কোন কোন জুমিয়া কাঁধে বোঝা করে পন্য নিয়ে আসছে বাজারে বিক্রির জন্য তবে বাজারে পৌঁছতে পৌঁছতে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এতে স্থানীয়দের অর্থনৈতিক দুরবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জেরক পাড়া ও হেমন পাড়ায় ৪৪ পরিবার তাদের সার্বিক সুবিধার জন্য দ্রুত একটি ফুটওভার ব্রীজ তৈরী আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। সেই সাথে বিশুদ্ধ পানির যে অভাব রয়েছে তাতেও প্রতিদিনই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব মোচনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের কাছে আবেদন জানিয়েছে। তারা এও বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক হলে আমরা অন্তত এগোতে পারতাম। তাই জেলা পরিষদেও কাছে আবেদন একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ সহ খাড়া পাহাড়ের সড়কে ইট-পাথরের সিঁড়ি, জেরক ও হেমন ত্রিপুরা গ্রামের সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পানির স্থায়ী সমাধানও আমরা চাই।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমাপন ও রাম কুমার ত্রিপুরা আশস্থ করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ প্রকল্প এবং জেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ পানি জনস্বার্থের এ উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকবে না হয়তো সময় লাগছে।