শিরোনাম
অবহেলিত জনপদের শিক্ষাগুরু এঁর ৩৩ বছরের কর্মজীবন শেষে চোখের জ্বলে বিদায়রাঙ্গামাটি হাসপাতালে এবার চোখের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্ভোধনফটোস্ট্যাট দোকানে ল্যাপটপ নিয়ে অনলাইন ভূমি সেবাকে নিরুৎসাহিত করুন: ভুমি প্রতিমন্ত্রীখাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চলেছে পাহাড় খেকোদের দৌরাত্ম্য, অভিযানে দুটি গাড়ি জব্দলংগদুতে এ্যাম্বুলেন্সের চালক এর অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগদীঘিনালায় বিজু মেলা উদযাপনে জোনের আর্থিক অনুদান প্রদানআতংকের নাম ‘তুইল্লার পাহাড়’ লামায় সেনা কর্মকতা হত্যা, প্রয়োজন যৌথবাহিনীর অভিাযানবান্দরবনের রোয়াংছড়িতে জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সভাখাগড়াছড়ির রামগড় স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের চিকিৎসক বিজয় এর হামলায় সহকর্মী আহতহালদা নদীর মানিকছড়ি অংশে বাঁধ নির্মাণ ত্রিপাল জব্দ করেছে মৎস্য প্রশাসন

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় বিপদ এড়াতে সতর্কতা জারি রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের

॥ মোহাম্মদ আলী ॥
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সারা দেশের ন্যায় গত দুইদিন ধরে রাঙ্গামাটিতেও অভিরাম বৃষ্টিত শুরু হয়েছে। ফলে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারা জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের প্রতি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘুর্ণিঝড়ের আসংখ্যায় শুক্রবার (৩০ মে) থেকে কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী সব ধরণের নৌযান চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ।

২০১৭ সালের পাহাড় ধসের কথা বিবেচনা করে রাঙ্গামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, রাজস্থলী ও লংগদু উপজেলায় এই সর্তকতা জারি করেছেন। এখানে পূর্বের অভিজ্ঞতা ও প্রাণহানির ঘটনা যাহাতে না ঘটে তার গুরুত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানান।

এদিকে জেলা শহরে ২৯টি সহ সারা জেলায় ২৬৭ আাশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এইকই সঙ্গে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পাওে এমন আশঙ্খাং তাৎক্ষনিক সহযোগীতার জন্য ১,৩০০ মে,টন খাদ্য শস্য জরুরী প্রয়োজনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অভিরাম বৃষ্টির কারণে ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জন লোকের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই আশঙ্কায় সতর্কতা জারির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।

এছাড়াও বৃহস্পতিবার বিকালে ও শুক্রবার সারাদিন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে ভেদভেদিস্থ লোকনাথ মন্দির ও বিএডিসি হিল সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মত বিনিময় করে অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই উপজেলায় প্রায় অর্ধ লক্ষ লোক ঝুঁিক পূর্ণস্থানে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসক জানান, ২০১৭ সালের পাহাড় ধস দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমরা আগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। কোনোভাবেই যেন একটি প্রাণও না হারায় সেটিই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরিদর্শনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় কাপ্তাই নৌপথের ৬টি রুটের বিপুল সংখ্যাক যাত্রী বিপাকে পড়েছে। রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাইন উদ্দিন সেলিম জানিয়েছেন কাপ্তাই হ্রদ উত্তাল থাকায় নদীবন্দরে সংকেত থাকায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলার সাথে চলাচলকারী লঞ্চসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেলে যথারীতি আবারো এই সকল নৌপথে নৌযান চলাচল শুরু হবে।